advertisement
আপনি দেখছেন

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যেকার গোলাপি বলের প্রথম টেস্ট উদ্বোধন করতে শুক্রবার একদিনের সফরে কলকাতা যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রাথমিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলাদা করে কোনো বৈঠকের কথা না থাকলেও সফরের আগের দিন বৃহস্পতিবার মমতার কার্যালয় থেকে একান্ত বৈঠকের জন্য চিঠি পাঠানো হলে ঢাকাও সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়। তবে এ বৈঠকে তিস্তা প্রসঙ্গে কোনো কথা হয়নি বলে খবর দিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা। 

hasina mamata 1প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ টায় তাজ হোটেলে ২০ মিনিট একান্তে বৈঠকের সিদ্ধান্ত হলেও শেষ পর্যন্ত বৈঠক গড়ায় প্রায় ৫০ মিনিটে। বৈঠক সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, প্রথমে উভয়পক্ষের কূটনীতিক এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন দুই নেত্রী। এসময় ভারতে নাগরিক তালিকা বা এনআরসি নিয়ে যা ঘটছে সে ব্যাপারে বাংলাদেশ যে অবহিত আছে সে ইঙ্গিত দেন হাসিনা। তবে পুরো বৈঠকে দুজনের কেউই তিস্তা প্রসঙ্গ তোলেননি।

বৈঠকের পরে মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন এক কোটি শরণার্থীকে ভারতে আশ্রয় দেয়ার প্রসঙ্গ তোলেন হাসিনা। এনআরসির মাধ্যমে ‘কথিত বাংলাদেশিদের’ ফেরত পাঠানো হবে কিনা তা নিয়ে যখন ভারতে জল্পনা শুরু হয়েছে, ঠিক তখনই মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়াটা একটি কূটনৈতিক কৌশল হতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে।

বৈঠকের পর শেখ হাসিনা বলেন, ‘আশা করি, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চিরদিন বজায় থাকবে।’

মমতাও একই সূরে বলেন, ‘দুই বাংলা ও দুই দেশের নানা বিষয়ে কথা হয়েছে। আমাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ থাকবে, সেই আশা করি।’

বৈঠকে মমতা শেখ হাসিনাকে দুই বাংলার মধ্যে শিল্প, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আরও আদানপ্রদানের সুযোগ রয়েছে বলে জানান।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশে সাইকেল শিল্পে উন্নতির কথা মুখ্যমন্ত্রীকে জানান। পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের সাইকেল নির্মাতারা বিনিয়োগ করতে চাইলে তাদেরকে জমি দেওয়ার আশ্বাসও দেন মমতা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় সংক্ষিপ্ত সফর শেষে শুক্রবার রাতে দেশে ফিরেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট রাত ১২টায় (বাংলাদেশ সময়) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।