advertisement
আপনি দেখছেন

কাফনের সাদা কাপড় পরে গলায় ব্যানারে লেখা ‘আমার মা’য়ের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন করব’। জেল থেকে মায়ের মুক্তি দেখে যেতে পারলেন না ‘বিএনপি পাগল’ রিজভী। গতকাল শনিবার রাত ১০টা ২০ মিনিটে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেই মৃত্যুবরণ করেছেন বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছে ‘পাগলা রিজভী’ হিসেবে পরিচিত রিজভী হাওলাদার। 

rijvi hawladerদলীয় নেতাকর্মীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন 'বিএনপি পাগল' রিজভী হাওলাদার

দলীয় কোনো পদ-পদবি না থাকলেও দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ রিজভীকে ঢাকায় বিএনপির প্রায় সব কর্মসূচিতেই দেখা যেতো। 

তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে বিএনপি চেয়ারপার্সনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, শনিবার চিকিৎসার জন্য কাকরাইলে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে যান রিজভী। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) যেতে বলা হয়। ঢামেক থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এসে রিকশা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় তার।

রাত দেড়টায় তার দলীয় কার্যালয়ের সামনেই দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ রিজভী হাওলাদারের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে রাতেই তার মরদেহ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ছোট্টকান্দা গ্রামের বাসিন্দা রিজভী থাকতেন নারায়ণগঞ্জে। প্রায় প্রতিদিন ভোরে বিএনপি কার্যালয় এলাকায় এসে সন্ধ্যার পর আবার ফিরে যেতেন।

রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দলের চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে আর কারো দেখা না মিললেও বিএনপির একনিষ্ট সমর্থক রিজভীকে পাওয়া যেত। কখনো অফিসের গেটের সামনে, কখনো বা রাস্তার ফুটপাথে ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’ বা ‘তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার চাই’ এমন সব ব্যানার নিয়ে সরব থাকতেন তিনি।

এমনকি না খেয়ে টাকা বাচিয়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর প্রতি শোক প্রকাশ করে ব্যানারও তৈরি করেছিলেন তিনি।

বিএনপির ও খালেদা জিয়ার প্রতি তার অন্তহীন ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন বারংবার। বলেছেন, ‘আমি বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে ভালবাসি, আমি জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী। ম্যাডামের জন্য আমি জীবনটাও দিতে পারি।

শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করতে করতে ভালোবাসার বিএনপি কার্যালয়ের সামনেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন এই ‘বিএনপি পাগল'।