advertisement
আপনি দেখছেন

চিকিৎসাধীন এক মুক্তিযোদ্ধার সনদ ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক শহীদুল্লাহ কায়সারের বিরুদ্ধে। সোমবার এ অভিযোগ তদন্ত করতে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

certi muktijodda tangailভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধাকে দেখতে হাসপাতালে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী

মুক্তিযোদ্ধার সনদপত্র ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ পেয়ে সোমবার হাসপাতালে যান কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। এসময় তিনি অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধার খোঁজখবর নেন এবং অভিযুক্ত চিকিৎসককে বরখাস্ত করে তার বিচার দাবি করেন।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার সনদ টেনে ছিঁড়ে ফেলেছেন ডা. শহীদুল্লাহ। এজন্য তার চিকিৎসা সনদ কেড়ে নিয়ে তাকে অনতিবিলম্বে বরখাস্ত করা উচিত।

ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা শাজাহান ভুঁইয়া বলেন, কোমর ও পায়ের গোড়ালির ব্যথা নিয়ে গত ১৭ নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। পরে বৃহস্পতিবার রোগী দেখার সময় তার ফাইলের ভেতর মুক্তিযোদ্ধার সনদ দেখতে পান ডা. শহীদুল্লাহ কায়সার। তখন ক্ষিপ্ত হয়ে সনদটি ছিঁড়ে ফেলেন ডাক্তার।

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, ইতোমধ্যে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে অভিযুক্ত ডাক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযুক্ত ডাক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার সনদ ছিঁড়ে ফেলা গুরতর অপরাধ। এটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতা বিরোধী কাজ।

এদিকে সনদ ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা অস্বীকার করে ডা. শহীদুল্লাহ কায়সার বলেন, বিষয়টি মিডিয়া ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে। সনদটি যেন হারিয়ে না যায়, সেজন্য ফাইল থেকে খুলে ওনার (মুক্তিযোদ্ধা) হাতে দেয়া হয়।

জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় কাদেরিয়া বাহিনীর অধীনে ১১ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন শাজাহান ভূঁইয়া। তার কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন বর্তমান কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক।