advertisement
আপনি দেখছেন

গুলশানের হলি আর্টিজান ক্যাফেতে হামলার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গির মাথায় আইএসের পতাকা সংবলিত টুপি কীভাবে এলো তার দায় নিচ্ছে না কেউ। এ ঘটনার তদন্তে নিয়োজিত কারাগার কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) দুইটি টিম ভিন্ন ভিন্ন তথ্য তুলে ধরেছে।

cafe attack capমৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গির মাথায় আইএসের পতাকা সংবলিত টুপি (মাঝে)

কারাগার কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটি বলছে, আদালত চত্বরে কারো কাছ থেকে টুপিটি সংগ্রহ করা হয়েছে। কারণ, কারাগার থেকে এই টুপি নিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই।

কারা অধিদপ্তরের ডেপুটি আইজি প্রিজন মো. টিপু সুলতান বলেন, কোনো আসামিকে কারাগার থেকে বের করে আদালতে নেয়ার সময় খুবই সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশি করা হয়। আবার কারাগারে প্রবেশ করানোর সময়ও একই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

তিনি বলেন, হলি আর্টিজান মামলার রায়ের দিনও আসামিদের তল্লাশি করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ঠিক একই নিয়মে আবারো কারাগারে প্রবেশ করানো হয়েছে। এ সময় আসামিদের নিকট কোনো টুপির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ডিএমপির তদন্ত কমিটির প্রধান মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, কারাগার থেকেই পকেটে করে আইএসের পতাকা সংবলিত টুপি নিয়ে আসা হয়েছে।

এখন প্রশ্ন ওঠেছে, তাহলে এই টুপি জঙ্গিদের সংগ্রহ করে দিল কে?

বুধবার বহুল আলোচিত এ মামলার রায়ে সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ ও একজনকে খালাস দেন সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান। রায়ের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গির মাথায় আইএসের পতাকা সংবলিত টুপি দেখা যায়। আদালত চত্বরে এত নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তাদের মাথায় এ টুপি আসে, তা নিয়ে ওঠে নানান প্রশ্ন।

পরে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় তদন্তে নামেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি। ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মাহবুব হোসেনকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়। পাশাপাশি কারাগার কর্তৃপক্ষ থেকে আরো একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজান ক্যাফেতে সশস্ত্র জঙ্গিরা হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশিসহ ২২ জনকে হত্যা করে। তাদের মধ্যে ইতালির নয়, জাপানের সাত, ভারতের এক, বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত আমেরিকান এক, বাংলাদেশি দুজন নাগরিক এবং দুজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। হামলার পেছনে ২১ জন জড়িত ছিলেন বলে জানা যায়। যাদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১৩ জন নিহত হন।