advertisement
আপনি দেখছেন

বন্ধ হয়ে যাওয়া খুলনা নিউজপ্রিন্টে মিলসের পরিত্যক্ত জমিতে ৮০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। সরকারি সূত্র জানায়, ৪০০ মেগাওয়াট করে দুই ইউনিটে মোট ৮০০ মেগাওয়াটের দ্বৈত জ্বালানির কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে থাকা নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (এনডব্লিউপিজিসিএল)। 

power plant 2খুলনা নিউজপ্রিন্টের জমিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করছে সরকার

এনডব্লিউপিজিসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) খোরশেদুল আলম ইউএনবিকে বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে প্রকল্পের জন্য একটি ইপিসি (ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট ও কনস্ট্রাকশন) ঠিকাদার নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি।’

তিনি জানান, যৌথভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করবে চীনের সাংহাই ইলেকট্রিক ও ইতালির অ্যানসালদো এনার্জিয়া নামে দুটি প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি ৩৫৯ মিলিয়ন ডলারে তাদের সাথে একটি চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে। তারা ৩০ মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিট এবং ৩৬ মাসের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপন করবে।

যেভাবে বন্ধ হয় খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস:

কাঁচামাল সরবরাহের অভাবে ২০০২ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলসের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) অধীনস্থ দেশের প্রথম নিউজপ্রিন্ট মিল হিসেবে খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস ১৯৫৯ সালে খুলনা মহানগরীর খালিশপুরের ভৈরব নদের তীরে প্রায় ৮৮ একর জমির ওপর স্থাপন করা হয়।

সূত্র মতে, খুলনা নিউজপ্রিন্টের প্রধান কাঁচামাল ছিল সুন্দরবনের গেওয়া কাঠ। এ নিউজপ্রিন্ট মিল হতে বছরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন কাগজ উৎপাদিত হতো। কিন্তু বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা হওয়ার পর বন বিভাগ সুন্দরবন থেকে গেওয়া গাছ কর্তনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ফলে এক পর্যায়ে কাঁচামালের অভাবে মিলটিতে কাগজ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

মিলটি বন্ধের পর প্রায় দেড় দশক ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল পুরো স্থাপনাটি। তবে মিলের চত্বরে এখন মুষ্টিমেয় কিছু কর্মচারী বাস করছেন। আর গোডাউন এখন সার সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।

নিউজপ্রিন্ট মিল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার পর সেখানকার জমি বিক্রির ব্যাপারে সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকে একটি সিদ্ধান্ত হওয়ার পর এনডব্লিউপিজিসিএল বিসিককে জমিটি ক্রয়ের প্রস্তাব দেয়।

বিনিয়োগ:

দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর মিলের ৫০ একর জমি ক্রয় করে এনডব্লিউপিজিসিএল। যেখানে প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করছে প্রতিষ্ঠানটি। তারা ওই জমির জন্য ২৫৪ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বিসিক।

প্রাথমিকভাবে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকায় (প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার) বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। যার মধ্যে ৬ হাজার কোটি টাকা (৭০৫ মিলিয়ন ডলার) ঋণ, আড়াই হাজার কোটি টাকা সরকারি অর্থায়ন এবং ৫ কোটি টাকা আসবে বাস্তবায়নকারী সংস্থার (এনডব্লিউপিজিসিএল) নিজস্ব তহবিল থেকে।

ঋণের ৭০৫ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দেবে ৫০০ মিলিয়ন (প্রায় ৪ হাজার ২৫০ কোটি) এবং বাকি ২০৫ মিলিয়ন আসবে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) থেকে।

এনডব্লিউপিজিসিএল বলছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১২ কিলোমিটারের মধ্যে আমদানিকৃত এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহ নেটওয়ার্ট থাকায় কেন্দ্রটি পরিচালনায় তারা এলএনজি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। তবে গ্যাস সরবরাহে সংকট দেখা দিলে তরল জ্বালনি দিয়েও কেন্দ্রটি পরিচালনার ব্যবস্থা সেখানে থাকবে।

খোরশেদুল আলম জানান, নতুন এ প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি খুলনা অঞ্চলে তরল জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা কেন্দ্রগুলোর প্রতিস্থাপন করবে। এ কেন্দ্রগুলো উচ্চ ব্যয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

‘এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পরে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় যথেষ্ট পরিমাণে হ্রাস পাবে এবং জাতীয় গ্রিড স্বল্প ব্যয়ে বিদ্যুৎ পাবে,’ যোগ করেন তিনি। ইউএনবি।