advertisement
আপনি দেখছেন

যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কারাগারে প্রবেশ করতে পারেন না কেউই। তিনি সংসদ সদস্যই হোন কিংবা মন্ত্রী। কিন্তু ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম হাজারী আইন লঙ্ঘন করে কারাগারে যেতেন নিয়মিত। এমনকি এখনো যান।

feni mp nijam hazarijpgফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম হাজারী

সোমবার দৈনিক প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি যুবলীগের দুই নেতাকে ফেনী জেলা কারাগারের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা সেলের ভেতর ঢুকে হুমকি দেয়ার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে এমন ভয়ংকর তথ্য পান তদন্ত কমিটির সদস্যরা। হুমকির শিকার হওয়া নেতারা হলেন- ফেনী জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি এম আজহারুল হক ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া।

এর আগে গত ৯ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও স্বরাষ্ট্রসচিব (সেবা সুরক্ষা বিভাগ) মোঃ শহিদুজ্জামানের কাছে যুবলীগের ওই দুই নেতা অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্য নিজাম হাজারীর দেহরক্ষী সাহাবুদ্দিন ও ফুলগাজীর আনন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হারুন মজুমদার কারাগারের নিরাপত্তা সেলের ভেতর ঢুকে তাদের হুমকি দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে যুবলীগের ওই দুই নেতা জানান, সাধারণ আসামি হওয়া সত্ত্বেও তাদের ফেনী জেলা কারাগারের নিরাপত্তা সেলের ৩ নম্বর কক্ষে রাখা হয়েছে। গত ১৩ এপ্রিল বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে সাহাবুদ্দিন ও হারুন কারাগারে প্রবেশ করে তাদের জিজ্ঞেস করেন, তাদের নামে থানায় কয়টি মামলা আছে? মামলা যে কয়টাই থাকুক না কেন তারা যেন কোনটাতেই জামিন না করায়। যদি জামিন করায় তাহলে কারাগার থেকে বের হওয়ার পর তাদেরকেও একরাম চেয়ারম্যানের মতো করে দিন-দুপুরে জনসম্মুখে পুড়িয়ে মারা হবে।

feni jail 2ফেনী জেলা কারাগার

লিখিত অভিযোগে আরো জানানো হয়, এরপর গত ৫ জুন দুপুর ১২টার দিকে ফেনী সদর থানার উপপরিদর্শক নজরুল ইসলাম ও এস আলম সবুজ নামের এক ব্যক্তি নিরাপত্তা সেলের ভেতর ঢুকে তাদের হুমকি দিয়ে বলেন, তারা যদি কারাগার থেকে বের হওয়ার পর কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন, তাহলে তাদের নির্মমভাবে নির্যাতন করা হবে।

এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে নামে তদন্ত কমিটি। যার এক পর্যায়ে সংসদ সদস্য নিজাম হাজারীর আইন ভেঙ্গে নিয়মিত কারাগারের অভ্যন্তরে প্রবেশের প্রমাণ পাওয়া যায়।

কারাগারের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বরাত দিয়ে তদন্ত কমিটি জানায়, নিজাম হাজারী চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৩ এপ্রিল এবং ৫ জুন তিনি তার দুই একজন অনুসারীদের সঙ্গে কারাগারে প্রবেশ করেছেন। এমনকি গত বছরের ২৩ আগস্টও তিনি কারাগারে ঢুকেছেন এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে। আইন অনুসারে তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কারাগারের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না পারলেও জেল সুপার নিজে তাকে কারাগারে ভেতর নিয়ে যেতেন।

কারাগারে প্রবেশের কথা স্বীকার করে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম হাজারী দৈনিকটিকে বলেন, একজন সংসদ সদস্য যদি চান তাহলে তিনি জেল সুপারকে অবহিত করে নিজের নির্বাচনী এলাকার কারাগারে প্রবেশ করতে পারেন। এর জন্য তাকে কারোর অনুমতি নিতে হয় না। নিজের নির্বাচনী এলাকার জনগণের দুঃখ-দুর্দশা যেমন তাকে দেখতে হয়, তেমনি কারাবন্দিদের অবস্থা দেখার জন্যও তাকে কারাগারে যেতে হয়।

যুবলীগ নেতাদের হুমকি দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি একজন সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি কেন ওই যুবলীগ নেতাদের হুমকি দিতে যাবেন? আর তাদের হুমকি দেয়ার কি আছে?

সংসদ সদস্যের কারাগারে প্রবেশের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল দৈনিকটিকে বলেন, শুধু সংসদ সদস্য কেন যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া একজন মন্ত্রীও কারাগারের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেন না। এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও না।

প্রসঙ্গত, সাধারণত দুর্ধর্ষ আসামি অথবা সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের কারাগারের নিরাপত্তা সেলে রাখা হয়। কিন্তু আজহারুল হক ও সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া বিচারাধীন মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তাদের নিরাপত্তা সেলে রাখা হয়েছে। জেল কোড অনুযায়ী জেল সুপার নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের সেলে দিয়েছেন।