advertisement
আপনি দেখছেন

গাজীপুরে লাক্সারি ফ্যান তৈরি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের প্রাণহানির ঘটনায় একটি মামালা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার রাতে জয়দেবপুর থানায় বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন অগ্নিকাণ্ডে নিহত রাশেদের বাবা কামাল হোসেন।

gajipur fan factory fireলাক্সারি ফ্যান কারখানার আগুন নিভানোর পর উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা

বিষয়টি নিশ্চিত করে জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম জানান, নিহত রাশেদের বাড়ি জেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের মার্তা গ্রামে। তার বাবা সোমবার রাতে দুইজন অজ্ঞাতনামাসহ মোট সাতজনের নামে মামলা দায়ের করেন।

এর আগে সোমাবার বিকালে জেলার শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নিহতদের ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষা শেষে লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় মরদেহ দাফন ও সৎকারের জন্য ওই ফ্যান কারখানার পক্ষ থেকে প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা ও জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থ সাহায্য দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়নের কেশোরিতা গ্রামে লাক্সারি নামের একটি ফ্যান তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হন।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শাহীনুর ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তাদের সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে সোমবার কারখানাটি পরিদর্শন শেষে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের যুগ্ম মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ জানান, লাক্সারি ফ্যান কারখানাটির সরকারিভাবে কোন অনুমোদন ছিল না।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানায়, কারখানাটিতে আগুন নেভানোর পর্যপ্ত ব্যবস্থা ছিল না বলেই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এমনকি কর্মচারীদের আগুন নেভানো প্রশিক্ষণও কখনো দেয়া হয়নি।