advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 14 মিনিট আগে

শীতের হিমেল হাওয়ায় সাজ সাজ রবে উদ্বোধনের অপেক্ষায় আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন। শুক্রবার বিকাল ৩টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দুই দিনব্যাপী সম্মেলনটি উদ্বোধন করবেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

al 21 conference

জানা যায়, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়ানোর মাধ্যমে সম্মেলনের প্রথম পর্বের সূচনা করা হবে। এরপর পরিবেশন করা হবে ২৫ মিনিটের একটি উদ্বোধনী সঙ্গীত। যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও সাফল্য তুলে ধরা হবে। সম্মেলন ঘিরে ইতোমধ্যেই দলটির মধ্যে বইতে শুরু করেছে উৎসবের হাওয়া।

ক্ষমতাসীন দলটির সম্মেলন ঘিরে ইতোমধ্যে অপরূপ সাজে সাজিয়ে তোলা হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং এর আশপাশের এলাকা। রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের গেট দিয়ে ঢুকতে চোখে পড়ে ছয়টি নৌকা। মরিচ বাতি লাগানো হয়েছে উদ্যানের গাছে গাছে। উদ্যানসহ আশেপাশের এলাকা ছেয়ে গেছে বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে। মৎস্যভবন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত লাগানো হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার কন্যা শেখ হাসিনার ছবি। এসব ছবির সঙ্গে আরো শোভা পাচ্ছে দলের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বর্তামান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্রসম্বলিত ফেস্টুন।

সম্মেলনের মঞ্চ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে বাংলার বহমান পদ্মার বুকে ৪০টি থামের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা স্বপ্নের পদ্মা সেতু। যার নিচে জলরাশিতে ভাসছে একটি ছোট জাহাজসহ অনেকগুলো নৌকা। আছে বিশাল আকার একটি পালতোলা নৌকাও। এছাড়াও নদীর একপাশে রয়েছে চর এবং সাদা কাশবন।

al 21 conference 2

পদ্মা সেতুর ওপর দলীয় প্রতীক হিসেবে রয়েছে বিশাল আকৃতির একটি নৌকা। যার ওপর রয়েছে স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতি। নৌকার মাঝেই বড় বড় করে লেখা '২১তম জাতীয় সম্মেলন- ২০১৯'। নৌকার পেছনে রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ছবি। সবার উপরের দিকে নিজের অস্তিত্ব জানা দিচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। যার ডান পাশে রয়েছে জাতীয় চার নেতা ও বাম পাশে রয়েছে বাংলাদেশে ইতিহাসের অবিস্মরণীয় চার নেতা।

এদিকে দলের জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে ইতোমধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসতে শুরু করেছে সারাদেশের জেলা, উপজেলা, মহানগর, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ডেলিগেটরা। এবারের সম্মেলনে সাত হাজার ৩৩৭ জন কাউন্সিলর ও সমসখ্যংক ডেলিগেটসহ প্রায় ৫০ হাজার অতিথি উপস্থিতি থাকবেন। তবে এবারের সম্মেলনে কোন বিদেশি অতিথি থাকছেন না।

অন্যদিকে সম্মেলন উপলক্ষে পুরো এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকরা।

শুক্রবার সম্মেলনের প্রথম দিন নেতাদের বক্তব্যের পরদিন আগামীকাল শনিবার সকাল ১০টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কাউন্সিল অধিবেশন হবে। এ অধিবেশনেই দলটির পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচিত এবং নতুন কমিটির নাম ঘোষণা করা হবে। দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, রাজনৈতিক বাঁক বদলে বড় পরিবর্তনের নতুন নেতৃত্ব আসছে!

সূত্রগুলো জানায়, আগামী তিন বছরের জন্য আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে এবারও শেখ হাসিনাই থাকছেন। আর সাধারণ সম্পাদক পদে দেখা যেতে পারে নতুন মুখ। এ ক্ষেত্রে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বা সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে অথবা আলোচনার বাইরে থেকে কেউ দায়িত্ব পেতে পারেন।

এরই মধ্যে বুধবার রাতে গণভবনে দলটির কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে বিভিন্ন উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক পদ বিলুপ্ত এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সংখ্যা ৪১ থেকে বাড়িয়ে ৫১ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন রোজ গার্ডেনে জন্ম আওয়ামী লীগের। ঐতিহ্যবাহী দলটির ৬৭ বছরে ২০টি জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

sheikh mujib 2020