advertisement
আপনি দেখছেন

ব্যবসায়িক কাজে বিয়ানীবাজার থেকে সিলেট শহরে যাওয়ার পথে ১৯৭৫ সালে নিখোঁজ হয়েছিলেন ৩৬ বছর বয়সী হাবিবুর রহমান। এরপর ৪৪টি ধরে কার কোনো খোঁজ মেলেনি। অবশেষে ফেসবুকে ছবি দেখে ৭৬ বছরে বয়সী সেই বাবাকে চিনতে পারেন সন্তানরা। সিলেট ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাবিবুর রহমানকে ফিরে পেয়ে তার পরিবারের সদস্যের যেন আনন্দের আর শেষ নেই!

missing habibur rahman

পরিবারের সদস্যরা জানান, ১৯৭৫ সালে নিখোঁজের সময় হাবিবুর রহমানের ঘরে চার সন্তান ছিল। তাদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছেলের বয়স ছিল ৪০ দিন, যার ঘরে এখন দুই সন্তান রয়েছে। হাবিবুর রহমানের অন্য ছেলেদেরও পরিবার আছে, সন্তান রয়েছে। তারা সবাই সাদাকালো ছবির একটি মানুষের হঠাৎ করে হারিয়ে যাওয়ার কাহিনীই জানে।

ঘরে থাকা সেই সাদাকালো ছবিটি দেখে বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুকে দেয়া একটি স্ট্যাটাস পড়ে হাবিবুর রহমানকে শনাক্ত করেন তার আমেরিকা প্রবাসী বড় ছেলের বউসহ অন্যরা। পরে সিলেটের ওসমানী হাসপাতাল থেকে শুক্রবার সকালে তাকে উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা।

জানা গেছে, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন মাজারে কাটিয়েছেন হাবিবুর রহমান। ঘুরতে ঘুরতে এক পর্যায়ে মৌলভীবাজারের হযরত শাহাব উদ্দিনের মাজারে আসেন তিনি। সেখানে রায়শ্রী এলাকার রাজিয়া বেগমের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর থেকে তিনিই বৃদ্ধ হাবিবুর রহমানের দেখাশুনা করতেন।

মাসখানেক আগে খাট থেকে পড়ে ডান হাত ভেঙে যায় হাবিবুর রহমানের। রাজিয়া বেগম প্রথমে তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করলেও ভাঙা হাতে ইনফেকশন দেখা দেয়ায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে অপারেশন করাতে পারছিলেন না রাজিয়া বেগম। বিষয়টি হাসপাতালের পাশের সিটের এক রোগীকৈ জনালে তিনি হাবিবুর রহমানের অবস্থা জানিয়ে সহায়তার জন্য ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন।

সেই পোস্টটি দেখতে পান হাবিবুর রহমানের বড় ছেলের বউ। তিনি বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে তারা ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে হাবিবুর রহমানকে শনাক্ত করেন। এ সময় হাবিবুর রহমান শুধু তার স্ত্রীর নাম বলতে পারছিলেন। পরে ওই হাসপাতাল থেকে তাকে নিয়ে সোবহানীঘাটে আল হারামাইন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

হাবিবুর রহমানের ছেলে জালাল উদ্দিন জানান, বিয়ানীবাজারের বেজগ্রামে বসবাস করার সময় বাবা নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাইনি। বর্তমানে আমরা বিয়ানীবাজার পৌরসভার কবসা এলাকায় বসবাস করছি। আমাদের মাও ২০০০ সালে মারা যান। এখন দীর্ঘ ৪৪ বছর পর বাবাকে ফিরে পেয়ে সব কিছু স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। আমাদের সন্তানরাও দাদাকে পেয়ে খুব খুশি। আল্লাহর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।