advertisement
আপনি দেখছেন

রাজধানীর দক্ষিণখানের আলোচিত মুন্নি বেগম ও তার দুই সন্তানকে হত্যার ‘মূল সন্দেহভাজন’ রকিব উদ্দিন। ধারণা করা হচ্ছে, ক্যাসিনোতে কোটি টাকা হারিয়ে হতাশাগ্রস্ত রকিব তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে খুন করেছেন। ঘটনার পর ওই বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ডাইরিতে লেখা ছিল- ‘ছেলেমেয়েকে খুন করলাম, আমাকে পাওয়া যাবে রেললাইনে।’

rakib munni family

স্বাভাবিকভাবেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রকিবকে চাঞ্চল্যকর ওই ট্রিপল মার্ডারের প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে দেখছে। ঘটনার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ। তাকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।

গত শুক্রবার দক্ষিণখানের প্রেমবাগান এলাকার পাঁচতলা বাড়ির চারতলার একটি ফ্ল্যাটে মুন্নি, তার ১২ বছরের ছেলে ফারহান উদ্দিন ভূঁইয়া ও তিন বছরের মেয়ে লাইবার অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

জানা যায়, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) উত্তরা কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রকিব উদ্দিন। তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, ক্যাসিনোতে কোটি টাকা খুইয়ে গত কয়েক মাস ধরেই হতাশায় ভুগছেন তিনি। ঋণের বোঝা হালকা করতে অনেকের কাছে টাকা চেয়েও পাননি। এ নিয়ে পরিবারে অশান্তি বিরাজ করছিল। সব কিছু সহ্য করতে না পেরে তিনি নিজের স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করে থাকতে পারেন।

এর আগে গত ডিসেম্বরে একবার রকিব উদ্দিন নিখোঁজ হয়েছিলেন। ওই সময় তিনি তার মোবাইল ফোনটি বাসায় রেখে যান। জানা যায়, অনেক লোক ওই নম্বরে ফোন করে পাওনা টাকার কথা বলেছিল। তখনই আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা রকিবের ঋণের কথাটি জানতে পারেন।

এরপর কুমিল্লার সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে বাসায় ফিরে আনার পর তাকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে রকিব বলেন, অনলাইনে ক্যাসিনো খেলে এসব টাকা তিনি হারিয়েছেন। টাকাগুলো তিনি তার বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতজনদের থেকে নিয়েছিলেন।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের বাদী ও মুন্নি বেগমের ভাই মুন্না রহমান বলেন, যেভাবেই হোক রকিবকে খুঁজে বের করতে হবে। তা না হলে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য খুঁজে বের করা যাবে না। তিনি হত্যাকাণ্ডটি ঋণের হতাশা থেকেই করেছেন। কারণ তিনি কয়েকবার আমার কাছ থেকে টাকা চেয়েছেন। আমি তাকে দেইনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দক্ষিণখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাসির উদ্দিন বলেন, ওই বাড়ি থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার পর দেখা গেছে, তাতে কোনো ফুটেজ সংরক্ষিত নেই। যে বা যারাই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তারা সিসিটিভি ফুটেজ মুছে দিয়েছে।

পুলিশের ধারণা, কোটি টাকার ঋণ থেকে মুক্তির জন্যই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন রকিব।

sheikh mujib 2020