advertisement
আপনি দেখছেন

রাজধানীর পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টায় এক বছর আগে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩১টি পরিবারকে সহায়তা দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগর ভবনে চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডির এক বছর উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব পরিবারকে সহায়তা দেন ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন।

dscc meyor in nagar vaban

অনুষ্ঠানে ওই ৩১টি পরিবারের চারজনকে দুই লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা, ২১ জনকে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী (মাস্টার রোল) হিসেবে নিয়োগপত্র, দুইজনকে একটি দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষিত আরো চারজনকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে যোগ্যতা অনুসারে চাকরি দেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

এ সময় মেয়র খোকন বলেন, চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৩১ জনের আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ তাদের সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এক বছর আগে এই দিনে চুড়িহাট্টায় দুর্ঘটনার সময় তিনি ডিএসসিসির কর্মকর্তাদের নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে ছিলেন। আটকা পড়া মানুষের জীবন বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পারেননি। চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না সেদিন। তারপরও চলে গেল অনেকগুলো প্রাণ।

curihatta tragedy

ডিএসসিসি মেয়র আরো বলেন, তার পাঁচ বছরের দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছেন তিনি। এর মধ্যে চুড়িহাট্টা অন্যতম। তাই পুরান ঢাকার এই ট্র্যাজেডির পর ডিএসসিসি জীবিকার আগে জীবনের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করেছে। অগ্নি নির্বাপণের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মানুষ যদি চুড়িহাট্টার এই ঘটনা ভুলে যায়, তাহলে আগামীতে আবার এর পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। তাই সকলকে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আশা করেন, পুরান ঢাকা থেকে কেমিকেল গোডাউন সরানো গেলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি অনেকটা কমবে। তাই এ বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের চুরিহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৭১ জনের প্রাণহানি ঘটে। ওইদিন রাত ১০টা ১০ মিনিটে প্রথমে নন্দকুমার দত্ত সড়কের চুরিহাট্টা মসজিদ গলির রাজ্জাক ভবনে আগুন লাগে। সেই আগুন মুহূর্তের মধ্যেই পাশের আরো কয়েকটি ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ওই এলাকার কেমিক্যাল গোডাউনসহ বহু স্থাপনা।