advertisement
আপনি দেখছেন

বাংলাদেশের শিল্প-কারখানার কাঁচামাল, মেশিনারিজ, শিশুদের খেলনা, বড়দের কাপড় এবং দৈনন্দিন ব্যবহার্য বিভিন্ন পণ্য আমদানি করা হয়ে থাকে চীন থেকে। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই চীনের সাথে বাংলাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে সেখান থেকে বিভিন্ন পণ্যের আমদানি। এ সুযোগে সেখান থেকে আসা বিভিন্ন চীনা পণ্যের দাম ইচ্ছেমতো বাড়িয়ে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

chinese products

এতে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বেশি প্রভাব বেড়েছে। চীনে ভাইরাস প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর থেকে বিভিন্ন পণ্যের দাম ২০-২৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। বেশি বেড়েছে কাপড়ের দাম।

দাম বাড়ার ফলে মার্কেটগুলোতে দেখা দিয়েছে ক্রেতা সঙ্কট। খুচড়া ব্যবসায়ীয়া আশঙ্কা করছেন, এমন আবস্থা আরো কিছুদিন চললে দাম আরো বৃদ্ধি পাবে। তারা বলছেন, কাপড়ের দাম গজে ১৫-২০ টাকা করে বেড়েছে।

কিন্তু ক্রেতারা বলছেন, ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম হাকাচ্ছেন। আগে তারা যে কাপড় ৭০ টাকা গজে কিনতেন, এখন তার দাম চাওয়া হচ্ছে ১৫০ টাকা। যার কারণে কাপড় কেনা থেকে অনেকেই বিরত থাকছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মার্কেটে ক্রেতা কম। কিছু আসলেও দাম শুনে চলে যাচ্ছেন। দাম আরো বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে পারেন তারা।

রাজধানীর ইসলামপুরের চায়না মার্কেট, নবাবপুর এবং চকবাজারের মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে তেমন ক্রেতা নেই। যার কারণে অবসর সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। আহসান মঞ্জিল সুপার মার্কেট চায়না মার্কেট নামে খ্যাত। প্রতিদিন সেখানে অনেক চায়না কাপড় আসে। মার্কেটের গ্রাউন্ড ফ্লোরে রয়েছে কাপড়ের পাইকারি দোকান। সেখান থেকে অনেক সস্তা দরে কাপড় বিক্রি হয়। যার কারণে অনেক দূর থেকে সেখানে ক্রেতারা আসেন। কিন্তু দাম বাড়ায় মার্কেটটি অনেকটা ক্রেতা শূন্য দেখা যায়।

মার্কেটের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমদানীকারকরা বলেছেন চীন থেকে আমদানি বন্ধ। সে অযুহাত দিয়ে ত্রা সিন্ডিকেট করে কাপড়ের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এখন যেসব পণ্য বাজারে ছাড়ছেন সেগুলো তো ভাইরাস ছড়ানোর আগে আনা হয়েছে। আমদানি বন্ধের সঙ্গে দাম বাড়ানোর কোনো যুক্তি তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না।

তিনি আরো বলেন, দাম বাড়ানোর কারণে অল্প করে কাপড় আনা হচ্ছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী কাপড় সরবরাহ হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে তাদের পথে বসতে হবে বলে দাবি করেন। যে কাপড় আগে ৭৫ টাকা গজে কেনা হয়েছে এখন তা ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। আর খুচরা বাজারে সেসব বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। অথচ আগে এসব কাপড় খুচরা বাজারে ১০০ টাকায় বিক্রি হতো।