advertisement
আপনি দেখছেন

আলোচিত ক্যাসিনো কাণ্ডে বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলায় অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। চার্জশিটভুক্তদের মধ্যে খালেদের দুই ভাইও রয়েছেন।

khaled jubo league casino

আজ রোববার সকালে সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

অভিযুক্ত আসামিরা হলেন— খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, মাসুদ মাহমুদ ভূঁইয়া, হাসান মাহমুদ ভূঁইয়া, হারুন রশিদ, শাহাদৎ হোসেন উজ্জ্বল ও মোহাম্মদ উল্লাহ খান।

ফারুক আহমেদ জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক কারবার, সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও ক্যাসিনো ব্যবসা থেকে অবৈধ আয়ের প্রাথমিক প্রমাণ মিলছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসামি খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার ভ্রমণ বৃত্তান্ত ও পাসপোর্ট পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি পাসপোর্টে কোনো বিদেশি মুদ্রা এন্ডোর্সমেন্ট করা ছাড়াই বহুবার বিদেশে গেছেন। তিনি বিদেশে যাওয়ার সময় নগদ বিদেশি মুদ্রা পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যেতেন। আসামি খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার মালয়েশিয়ার ভিসায় ‘এমওআইএস এমওয়াই-২ হোম’ লেখা আছে, যা ‘সেকেন্ড হোম ভিসা’ নামে পরিচিত।

আর এই ভিসা নেওয়ার শর্ত হিসেবে মালয়েশিয়ার আরএইচবি ব্যাংকে ৩ লাখ রিঙ্গিত এফডিআর করা আছে, যা নিয়মবহির্ভূতভাবে তিনি মালয়েশিয়ায় পাচার করেছেন।

সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে, সিঙ্গাপুর সিটির জুরাং ইস্ট এলাকায় মেসার্স অর্পণ ট্রেডার্স প্রা. লি. নামে খালেদের একটি কোম্পানি আছে। এই কোম্পানির মূলধনও বেআইনিভাবে হুন্ডির মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে পাচার করা হয়েছে। খালেদ ও তার কোম্পানির নামে ব্যাংক হিসাব থাকার প্রমাণ হিসেবে ইউওবি ব্যাংকের ডেবিট কার্ডও জব্দ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, তার নামে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্টে ২০ লাখ টাকার সমপরিমাণ থাই বাথ জমা থাকার তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। আসামির কাছ থেকে ব্যাংকক ব্যাংকের আরও দুটি ডেবিট কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালেদের সহযোগী আসামি মোহাম্মদ উল্লাহ তার নির্দেশে বিদেশি মুদ্রা কেনেন। মোহাম্মদ উল্লাহ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার নামে বর্তমানে পাঁচটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং অভিযোগ আরও অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বৈদেশিক মুদ্রা রাখার অপরাধে ‘ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশনস আ্যাক্ট-১৯৪৭’-এ মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করে র্যাব। এরপর র্যাব বাদী হয়ে খালেদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মানিলন্ডারিং আইনে গুলশান ও মতিঝিল থানায় চারটি মামলা দায়ের করে।