advertisement
আপনি দেখছেন

সম্পতি অনুষ্ঠিত ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন নিয়ে বলা হয়, আগের যেকোনো সময়ের থেকে এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ। তবে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) তাদের মূল্যায়নে বলেছে, এই শান্তি অশান্তির চেয়েও ভয়াবহ।

sujon press conference

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার সিটি নির্বাচন নিয়ে তাদের তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একটি প্রচার আছে যে এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ছিল। সুজন মনে করে, এই শান্তি অশান্তির চেয়েও ভয়াবহ। কেননা, ভয়ের সংস্কৃতির কারণে কেউ অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাহস না পেলে সেই অন্যায়ের প্রতিকার পাওয়া দুস্কর।

সুজন বলেছে, দুই সিটির নির্বাচন সামগ্রিকভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল। তবে অতীতের তুলনায় নিয়ন্ত্রণের ধরন ছিল কিছুটা ভিন্ন। এই ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনগুলো যেন দেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হচ্ছে।

ইভিএম সম্পর্কে সুজনের অভিমত হলো- ইভিএম নিয়ে ভোটারদের মধ্যে যে উদ্বেগ ও আস্থাহীনতা ছিল, এই নির্বাচনের পর নির্বাচন কমিশনের পক্ষে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি; বরং সেগুলো আরও প্রকট হয়েছে। এই উদ্বেগ ও আস্থাহীনতা নির্বাচন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করছে। 

গত ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিজয়ীদের তথ্য বিশ্নেষণ ও নির্বাচন নিয়ে সোমবার নিজেদের মূল্যায়ন তুলে ধরে সুজন।

সংবাদ সম্মেলনে সুজন সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, নির্বাচন কমিশন যে ব্যর্থ, তা সিটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণ হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছারও অভাব রয়েছে। ঢাকা সিটি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি অনেক কমেছে, যা একটি অশনিসংকেত।

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ঢাকা সিটি নির্বাচন ছিল নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা। তারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। জাতীয় নির্বাচনে দৃশ্যমান কারচুপি হয়েছিল। এবার অদৃশ্য কারচুপির অভিযোগ উঠেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। সামনেও আর কোনো আশার আলো দেখছি না।

সংবাদ সম্মেলনে সুজনের কোষাধ্যক্ষ আবু নাসের মোহাম্মদ বখতিয়ার, নির্বাহী সদস্য ড. শাহনাজ হুদা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

sheikh mujib 2020