advertisement
আপনি দেখছেন

ইতোমধ্যে রাজধানীতে মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। ফলে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত নানা রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্টরা সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। কারণ গত বছর শুধু সরকারি হিসাবেই ডেঙ্গুতে শতাধিক লোকের মৃত্যু হয়েছে। বেসরকারি হিসাবে যা আরো বেশি।

pm hasina city mayore

আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার দুই সিটির নবনির্বাচিত মেয়রদের শপথ পড়ানোর পর সেই বিষয়েই সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, মশা ক্ষুদ্র হলেও অনেক শক্তিশালী। মশা নিয়ন্ত্রণে সবাইকে ব্যবস্থা নিতে হবে। মশা যেন ভোট খেয়ে না ফেলে (অর্থাৎ মশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারলে জনগণ ভোট দেবে না) সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত ওই শপথ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে সমস্যা। এখন থেকেই এই মশা নিয়ন্ত্রণে সবাইকে ব্যবস্থা নিতে হবে। সেদিকেও আপনাদের (নতুন মেয়র ও কাউন্সিলরদের) দৃষ্টি দিতে হবে। মশা আপনার ভোট যেন খেয়ে না ফেলে।

করোনোভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাঝেমধ্যে একেকটা ঝামেলা আসে। এখন যেমন করোনাভাইরাস দেখা দিয়েছে। এর থেকে কীভাবে বাংলাদেশকে মুক্ত করা যায় তার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে দেশজুড়ে অনেক উন্নয়ন করেছে সরকার। এ ছাড়া অনেক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যেগুলোর কাজ চলছে। এর আগে ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পরও আমরা অনেক প্রকল্প নিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে।

চলমান মেগা প্রকল্পে অনিয়ম হলে কাউকে ছাড়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে যে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪১ শতাংশ, তা আমরা ২০.৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। আমরা যখন ক্ষমতায় এসেছি, এরপর বৈশ্বিক মন্দা ছিল, আমরা সেই প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়তে দেইনি। আগে অন্যের কাছে আমাদের হাত পাততে হতো। এখন আর কারও কাছে হাত পাততে হয় না।

দেশের ৯৫ ভাগ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে ৮২ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করতো। এদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই বঙ্গবন্ধু আজীবন চেষ্টা করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, দেশ স্বাধীনের পরে তিনি মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পান। এক বিধ্বস্ত অবস্থায় শূন্য হাতে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরেই তিনি একটি সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন। শহীদ পরিবার, শিক্ষার্থীদের, সাধারণ নাগরিকদের, সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান, স্কুল-কলেজ, খাদ্য নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। তার এই নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক দক্ষতার ফলেই বাংলাদেশ অতি অল্প সময়েই স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা পেয়েছিল।

উল্লেখ্য, এদিন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসকে শপথ পড়ান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ১ ফেব্রুয়ারি উভয় সিটিতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়।

sheikh mujib 2020