advertisement
আপনি দেখছেন

গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা ওয়াসার পানির দাম আবাসিক সংযোগে ১০ শতাংশের মতো বাড়ানো হয়। ছয় মাসের ব্যবধানে আবারো বাড়ানো হয়েছে পানির দাম। সেইসঙ্গে বেড়েছে বিদ্যুতের দাম। ফলে নগরবাসীর মনে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিশ্লেষকরাও বলছেন, এর প্রভাব প্রতিটি ক্ষেত্রে পড়বে।

price hike electiricity water

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে পানির দাম বাড়িয়ে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়, আবাসিকে ঢাকা ওয়াসার সরবরাহকৃত প্রতি এক হাজার লিটার পানির দাম ১১ টাকা ৫৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৪ টাকা ৪৬ পয়সা করা হয়েছে। আর বাণিজ্যিক সংযোগে প্রতি হাজার লিটার পানির দাম ৩৭ টাকা ৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম ওয়াসা আবাসিক সংযোগে প্রতি হাজার লিটার পানির দাম ৯ টাকা ৯২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১২ টাকা ৪০ পয়সা এবং বাণিজ্যিকে ২৭ টাকা ৫৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা ৩০ পয়সা করা হয়েছে।

তার মানে ঢাকায় আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে পানির দাম ২৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং চট্টগ্রামে ২৫ শতাংশ বাড়ছে। আর বাণিজ্যিক সংযোগে ঢাকায় ৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং চট্টগ্রামে ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ পানির দাম বেড়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বৃহস্পতিবার পাইকারি, খুচরা ও সঞ্চালন- তিন ক্ষেত্রেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। তাতে সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে (খুচরা) প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ, যা মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে।

মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে পানির দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোড এলাকার মীর মোকাব্বির হোসেন শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরকার চুরি বন্ধ করতে পারে না, এর দায় চাপায় সাধারণ মানুষের ওপর।”

তিনি জানান, আগে তার ছয় তলা বাড়ির জন্য পানির বিল আসতো মাসে দশ হাজার টাকার মতো। এখন তাকে আরও অন্তত আড়াই হাজার টাকা বেশি দিতে হবে।

অন্যদিকে, জাতীয় ভাড়াটিয়া পরিষদের সহ-সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ ইয়াসিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস বা পানি- এই তিন সেবার যেকোনো একটার দাম বাড়লেই বাড়ি ভাড়া বাড়িয়ে দেন মালিকরা। আর এখন বিদ্যুৎ-পানি একসঙ্গে বেড়েছে।

তিনি বলেন, “দেখা গেছে পানির বিল বেড়েছে দুই-তিনশ টাকা। বাড়িওয়ালা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন পাঁচ শ থেকে এক হাজার টাকা। এভাবেই দিনের পর দিন চলে আসছে। যতদিন পর্যন্ত সরকারের চার্ট আকারে ভাড়া না আসে ততদিন এভাবেই চলবে। এ জন্য ইউটিলিটি বিল ভাড়াটেরা আলাদা দেব এমন আইন করতে হবে।”