advertisement
আপনি দেখছেন

অর্থপাচার ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে সরকারের কড়া সমালোচনা করে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন বলেছেন, প্রশাসনের লোকেরা দুর্নীতি করছে। এর দায় সরকার এড়িয়ে যেতে পারে না। তাছাড়া সরকারে পচন ধরলে আমি পচব কেনো বলেও প্রশ্ন রাখেন তিনি।

rashed khan menon 2018

সম্প্রতি রাজশাহীতে এক জনসভায় রাশেদ খান মেনন দাবি করেছিলেন, এই সরকারের আমলে গত কয়েকবছরে দেশ থেকে পাঁচ লাখ হাজার কোটিরও বেশি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। এমন দাবির প্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার দেশীয় এক গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমি সব সময় কথা বলেছি। সংসদে দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকবার দেশের এমন অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলেছি। তারপরও বলছি, পাপিয়া বা জি কে শামীমদের দুর্নীতির দায় আমাদের ওপর বর্তাবে কেনো? সরকারে পচন ধরলে আমি পচব কেনো?’

গত ২৯ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় অংশ নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বলেন, এক টাকা দুই টাকা নয়, ২০১৪ সালে দেশ থেকে প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। গত কয়েকবছরে সেই পরিমাণটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় পাঁচ লক্ষ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই টাকাগুলো দিয়ে দেশের একবছরের বাজেট করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিরাও এত টাকা নিয়ে যায়নি, যত টাকা গত কয়েকবছরে পাচার হয়েছে। অথচ দুদক এসব নিয়ে কথা বলে না।

সংসদে যখন ঋণ খেলাপিদের নাম প্রকাশ করা হয় তখন একইসঙ্গে টাকা পাচারকারীদের নাম প্রকাশ করতে হবে দাবি করে তিনি বলেন, তখন দেখা যাবে অনেক পরিচিত লোকও এর মধ্যে আছেন। এজন্যই সরকার পাচারকারীদের নাম প্রকাশ করে না।

মহাজোটের এই সাংসদ বলেন, ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে কোটিপতি ছিল মাত্র চারজন। আর তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লক্ষ ২২ হাজারে। তাদের জীবনযাপন, আয়েশ, বিলাস দেশের যুবকদের হতাশ করছে। সকল ক্ষেত্রেই এমন বৈষম্য দেখা দিয়েছে। দেশের মাথাপিঁছু আয় ১৯০৯ ডলার। আর দারিদ্রসীমার নিচে যারা বসবাস করেন তাদের মাথাপিঁছু আয় এক ডলারেরও কম।