advertisement
আপনি দেখছেন

করোনায় আক্রান্ত হলে কেমন লাগে? আমাদের অনেকের জিজ্ঞাসু মন হয়তো খুব করে এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চায়। করোনায় আক্রান্ত হয়ে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরা এক নারী সেই প্রশ্নের উত্তর দিলেন, বর্ণনা করলেন তার ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা। বললেন, ‘প্রত্যেক মুহূর্তেই মনে হচ্ছিল একটু পর মারা যাব। শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল খুব, দম নিতে পারছিলাম না। কেউ যেন সর্বশক্তি দিয়ে আমার গলা চেপে ধরেছে।’

kuwait bd womenকুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল

পেশায় চিকিৎসক ওই নারী কাজ করেন ঢাকার একটি সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। গত ১২ মার্চ তার ডিউটি ছিল রাতের পালায়। দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ওই সময় চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর সঙ্গে হাসপাতালে এসেছিলেন একজন চীনা নাগরিক। কিছু একটা লেখার জন্য ওই চীনা নাগরিক তার কলমটি চেয়ে নেন এবং কিছুক্ষণ পরেই ফেরত দেন। ওই নারীর ধারণা, এতে করেই তার মধ্যে সংক্রমিত হয়েছে করোনাভাইরাসের জীবাণু।

অসুস্থতার শুরুটা কীভাবে হয়েছিল? তিনি বলেন, ‘২০ মার্চ হালকা জ্বর আসে, সঙ্গে শুরু হয় গলা ব্যাথা। স্বামী ঢাকার বাইরে থাকায় সন্তানদের রেখে হাসপাতালেও যেতেও পারছিলাম না। নিজেই বাসায় বসে অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছিলাম। একটা সময় টের পাই, অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। আমার ইনচার্জকে জানানোর পর তারা এম্বুলেন্স পাঠায়। প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হই কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে।’

corona bangladeshiপ্রতীকী ছবি

হাসপাতালে আইসোলেশনে থাকা সময়টা ভয়ানক, জানালেন বয়স ত্রিশ পেরোনা ওই নারী। বললেন, ‘শ্বাসকষ্ট আর শরীরের ব্যথায় আমি নড়তে পারছি না, কিন্তু এক গ্লাস পানি দেওয়ার কেউ নেই। আইসোলেশন মানেই আপনাকে একদম একা থাকতে হবে, যে অবস্থায়ই হোক না কেন। হাসপাতালের কর্মীরা দূর থেকে কোনো রকমে খাবার দিয়ে যেতেন।’

‘আমার বয়স কম, তাছাড়া অন্য কোনো রোগও নেই শরীরে, সেজন্যই হয়তো আমি স্বামী-সন্তানের কাছে বেঁচে ফিরতে পারলাম। একটু বয়সী হলে ওই অবস্থা থেকে ফেরাটা সম্ভব না।’- বলেন ওই নারী।