advertisement
আপনি দেখছেন

গত বছরের শেষের দিকে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন মাগুরার যুবক লাল চাঁদ। উদ্দেশ্য ছিল ভূ-মধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়া। কিন্তু সম্প্রতি লিবিয়ায় মানবপাচারকারীর পরিবারের সদস্যদের গুলিতে ২৬ জন বাংলাদেশির সঙ্গে মারা যান তিনি। এ খবর পাওয়ার পর থেকে জেলার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে তার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা।

lal chand houseলিবিয়ার মিজদা শহরে মানবপাচারকারীদের গুলিতে মারা যান মাগুরার যুবক লাল চাঁদ

নিহত লাল চাঁদের বাবা ইউসুফ খান জানান, ইতালিতে অভিবাসনের উদ্দেশ্যে গত বছরের শেষ দিকে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন তার ছেলে। বাংলাদেশ থেকে দুবাই হয়ে লিবিয়ার বেনগাজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঠিকঠাক মতো পৌঁছান। এরপর মানবপাচারকারী চক্রটি তাকে কয়েক মাস গোপনে রাখে। চক্রটির পরিকল্পনা ছিল ইতালিতে অভিবাসন প্রত্যাশীদের ভূ-মধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে সেখানে পাঠানো। কিন্তু পরিকল্পনা মাফিক কোনো কাজ হয়নি। বরং তাদের গুলিতেই মারা যান লাল চাঁদ।

তিনি আরো জানান, আনুমানিক ১৫ দিন ধরে লাল চাঁদ কয়েকজন অভিবাসন প্রতাশীর সঙ্গে মানবপাচারকারী চক্রের হাতে আটকা ছিল। তাদের লিবিয়ার রাজধানীর ত্রিপলির দক্ষিণের মিজদা শহরে মুক্তিপণের জন্য আটকে রাখা হয়েছিল। এ নিয়ে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে অভিবাসন প্রত্যাশীদের দর কষাকষি চলছিল।

ইউসুফ খানের ধারণা, মুক্তিপণ দিতে না পারায় তার ছেলেসহ অন্যদের হত্যা করা হয়েছে। তাই এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচারসহ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানা তিনি।

ওই ঘটনায় ২৬ বাংলাদেশির নিহত হওয়া ছাড়াও আহত হয়েছেন ১১ জন বাংলাদেশি। আহতদের একজন মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে তরিকুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি লিবিয়ার একটি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। 

আহতের দুলাভাই মো. জিনারুল ইসালাম জানান, গত বছর সেপ্টেম্বরে তরিকুল ও লালচাঁদ এক দালালের মাধ্যমে লিবিয়া যান। কথা ছিল তাদের দেশটির রাজধানী ত্রিপলিতে টাইলস মিস্ত্রির কাজ দেওয়া হবে। কিন্তু দালাল চক্রটি গত সাত মাসেও তাদের সেখানে পৌঁছতে পারেনি। বরং তাদের মিজদা শহরের একটি ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়। যেখানে বৃহস্পতিবার চক্রটির সদস্যদের গুলিতে আহত হন তরিকুল।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার লিবিয়ার সাহারা মরুভূমি অঞ্চলের মিজদা শহরে এক মানবপাচারকারী পরিবারের সদস্যদের গুলিতে ২৬ বাংলাদেশি এবং ৪ আফ্রিকান অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন আরো ১১ জন বাংলাদেশি।

sheikh mujib 2020