advertisement
আপনি দেখছেন

করোনাকালে সবচেয়ে বেশি সঙ্কটে পড়েছেন মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা। যে টিউশনির টাকায় কোনোরকমে থাকা-খাওয়ার খরচ চলতো সেটাও চলে গেছে। যারা বাড়ি থেকে টাকা আনতেন, সেটা আনাও সম্ভব হচ্ছে না সঙ্গত কারণেই। স্বাভাবিকভাবেই ভাড়া বকেয়া হয়ে গেছে দুই-তিন মাসের। হাতে গোনা কয়েক জায়গায় বাড়িওয়ালারা এক্ষেত্রে সদয় হয়েছেন। কিন্তু বেশিরভাগ জায়গায় বাড়িওয়ালাদের নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

landlord cruality

নিষ্ঠুরতার দিকে থেকে ধানমণ্ডি এলাকার বাড়িওয়ালা মজিবুর রহমান যেন সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন। তার বাড়ির নিচ তলায় ভাড়া থাকতেন ঢাকা কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ শিক্ষার্থী। করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার কিছুদিন পর তারা সবাই বাড়ি চলে যান। সম্প্রতি ঢাকা ফিরেছেন, কিন্তু মেসে এসে দেখেন তাদের মালামাল সব বাইরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ময়লার গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়েছে সার্টিফিকেটসহ জরুরি কাগজপত্র।

তাদেরই একজন ঢাকা কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সজীব। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, বাড়িওয়ালা আমাদের স্বপ্নটাকেই ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছেন। এই শহরের কোনো বাড়িওয়ালা এতটা অমানুষ হতে পারে সেটা আমাদের জানা ছিল না। এমনটা জানা থাকলে আমরা বই-খাতা নিয়ে একসঙ্গেই বাড়ি চলে যেতাম।

bd update 8may

সজীব আরো বলেন, আমার রুমমেটদের অনেকের কম্পিউটার-ল্যাপটপ ভেঙে ফেলা হয়েছে। কাঁথা-বালিশসহ যত জিনিশপত্র ছিল সেগুলো রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। বাড়িওয়ালা ফোন করে আমাদের কাছে ভাড়া চেয়েছেন, সমস্যার কথা বলে অপেক্ষা করার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তিনি সেসব গ্রাহ্য না করে সবকিছু ফেলে দিয়েছেন। এমনকি অ্যাডভান্সের টাকাটাও আটকে দিয়েছেন। আমরা চাই, আর একজন শিক্ষার্থীও যেন এমন নিষ্ঠুরতার শিকার না হয়।

sheikh mujib 2020