advertisement
আপনি দেখছেন

হেফাজতে ইসলামের বিভক্তি এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। দুই পক্ষ প্রকাশ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে কথা বলে যাচ্ছে। এক পক্ষের নেতৃত্বে সংগঠনটির মহাসচিব হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী অন্য পক্ষে সংগঠনের প্রচার সম্পাদক মাওলানা আনাস মাদানী। পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তাতে খুব সহসা ভেঙে যেতে পারে বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলাম। উল্লেখ্য, মাওলানা আনাস মাদানী হেফাজতের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর ছেলে।

babunogori madaniজুনায়েদ বাবুনগরী (বাঁয়ে) ও আনাস মাদানী

দ্বন্দ্বের বিষয়টা প্রকাশ্যে আসে কয়েকদিন আগে হাটহাজারী মাদরাসায় অনুষ্ঠিত হওয়া মসলিসে শূরার বৈঠকের মধ্য দিয়ে। ওই বৈঠকে মাদরাসার সহকারি পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় জুনায়েদ বাবুনগরীকে। তার সম্মতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলা হলেও বাবুনগরী জানিয়ে দেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না! এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন বাবুনগরীর সমর্থকরা। তারা বলেন, শফীপুত্র আনাস মাদানীর ষড়যন্ত্রের শিকার জুনায়েদ বাবুনগরী।

এই ঘটনার পর মুখোমুখি অবস্থান নেন জুনায়েদ বাবুনগরী ও আনাস মাদানি। শফীপুত্র আনাস বলেন, জুনায়েদ বাবুনগরী জামায়াতে ইসলামির এজেন্ট হয়ে কাজ করে থাকেন এবং তার জন্যই শাপলা চত্ত্বরে হেফাজতের নেতাকর্মীরা মার খেয়েছে। অন্যদিকে আনাস মাদানিকে উদ্দেশ্যে করে বাবুনগরী বলেন, যারা এখন সরকারের দালালি করছে তারাই শাপলায় সরকারবিরোধী সমাবেশের আয়োজন করেছিল।

hefazot demonstration

জানা গেছে, দল থেকে বাদ দেওয়ার মহড়া হিসেবেই আগে মাদরাসার সহকারী পরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল জুনায়েদ বাবুনগরীকে। শিগগিরই দলীয় বৈঠক ডেকে হেফাজতে ইসলাম থেকেও বাদ দেওয়া হবে তাকে। তাতে করে স্পষ্টতেই দুই টুকরো হতে যাচ্ছে হেফাজতে ইসলাম।

যে ১৩ দফা দাবি নিয়ে হেফাজতের উত্থান, সেগুলো এখন আর আলোচনায় নেই। তবে বাবুনগরী বরাবরের মতোই সেসব নিয়ে সরব। এছাড়া নানা সময় তিনি সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে থাকেন, যার কারণে হেফাজত থেকে তাকে সরিয়ে দিতে সরকারের পক্ষ থেকেও চাপ আছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট অনেকে।

sheikh mujib 2020