advertisement
আপনি দেখছেন

দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। এর মধ্যে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে এই পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৫৩ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। যা অতীতের ৩০ বছরের রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে।

flood 2k20

রাত ১০টার দিকে একই পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৫৩ দশমিক ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় একই পয়েন্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিপদসীমা অতিক্রমের রেকর্ড। ২০১৯ সালে এর পরিমাণ ছিল ৫৩ দশমিক ১০ সেন্টিমিটার।

তবে আজ সোমবার পানি প্রবাহের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। দুপুর ১২টার দিকে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বর্তমানে প্রবাহের বেগ এর আশপাশেই বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল কাদের।

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় লালমনিরহাটের প্রায় ৪০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। যদিও সরকারি হিসেবে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ২১ হাজার পরিবার। এমতাবস্থায় রোববার রাতেই বিশেষ সতর্কতা জারি করে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

ধরলা নদীর পানিও অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করেছে। আজ দুপুরে সদর উপজেলার মোগলহাটের শিমুলবাড়ি পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এমন অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধিতে উপজেলার মোগলহাট ও কুলাঘাট ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে শহর ও শহরতলীর জনগণ।

flood 2019

এদিকে ভারতের গজালডোবা ব্যারেজ থেকে ধেয়ে আসা পানি নিয়ন্ত্রণ করতে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানীতে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও সদর উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়া উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের ৯ ওয়ার্ডের ৭টি ওয়ার্ডের মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছেন। এর মধ্যে শুধু এই ইউনিয়নেই ১০ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানিবন্দি পরিবারগুলোর সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। তাদের জন্য সরকারিভাবে ৩৫ মেট্রিক টন জিআর চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, এলাকাসমূহে মাইকিং করে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর বলেন, পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য সরকারিভাবে ২৪৩ মেট্রিক টন জিআর চাল ও নগদ সতেরো লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

sheikh mujib 2020