advertisement
আপনি দেখছেন

সম্প্রতি কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের গুলিতে নিহত সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। তার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস এ কথা জানিয়েছেন। রাশেদ খানকে ‘হত্যার উদ্দেশ্যে’ পুলিশ গুলি করেছিল অভিযোগ করে মামলাটি করা হতে পারে।

mejor sinha rashedসিনহা রাশেদ

গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। পুলিশের পক্ষ থেকে ওই সময় বলা হয়, রাশেদ সিনহা তার পরিচয় দিয়ে ‘তল্লাশিতে বাধা দেন’। এর পর তিনি ‘পিস্তল বের করলে’ দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের কথাও জানায় পুলিশ।

তবে শারমিন শাহরিয়া বলছেন, ‘যদি আদনানের (পরিবারের ডাক নাম) অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতো, তাহলে অস্ত্র বের করে গুলি করতে মাত্র ৪ সেকেন্ড সময় লাগতো। কিন্তু সে তা করেনি, বরং হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে গুলি করা হয়েছে। হত্যা মামলা করব আমরা।’

sinha rashed with familyপরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাশেদ সিনহা

মঙ্গলবার একটি গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘সকালে ফোন করে আমার মায়ের সাথে কথা বলেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি খোঁজখবর নিয়েছেন, সান্ত্বনা দিয়েছেন এবং আশ্বস্থ করেছেন।’

শামলাপুর চেকপোস্টের পুলিশ যে দাবি করেছে, তা প্রত্যাখ্যান করেন সিনহা রাশেদের বড় বোন। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি বিচার চাই, তাহলে মামলা করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে আমরা গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করছি। সবার সঙ্গে পরামর্শ করব। এর পর দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে একটি হত্যা মামলা করব।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শারমিন শাহরিয়া বলেন, ‘ও আমার ৫ বছরের ছোট, আমাদের পরিবারের সবার এনার্জি সোর্স ছিল আদনান। যেকোনো বিষয়ে পরিবারের সবাই ওর পরামর্শ নিতো। ২০০৭ সালে যখন আমাদের বাবা মারা গেল, তার পর থেকেই আদনানই পরিবারের দায়িত্বটা পালন করছিল।’

সিনহা ২০১৮ সালে সৈয়দপুর সেনানিবাসে থাকা অবস্থায় স্বেচ্ছায় অবসরে যান। ৫১ বিএমএ লং কোর্সে অংশ নিয়ে সেনাবাহিনীতে কমিশন পেয়েছিলেন তিনি। অবসরে যাওয়ার পর থেকে সিনহা ভ্রমণ বিষয়ক একটি ডকুমেন্টারি বানানোর কাজ করছিলেন। ‘লেটস গো’ নামে ওই ডকুমেন্টারির কাজেই গত এক মাস ধরে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকায় ছিলেন। আরো তিন সঙ্গীসহ তারা উঠেছিলেন নীলিমা রিসোর্টে।

sheikh mujib 2020