advertisement
আপনি দেখছেন

পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান তার সঙ্গীদের নিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ির নীলিমা রিসোর্টে থাকতেন। তার মৃত্যুর পর রিসোর্টের সুপারভাইজারের কাছ থেকে সাদা কাগজে সই নেয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি সেখান থেকে ল্যাপটপ ও হার্ডড্রাইভও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

coxbazar nilima resortগণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন রিসোর্টের সুপারভাইজার

জানা গেছে, কক্সবাজারের হিমছড়ির নীলিমা রিসোর্টে তিন সঙ্গীসহ থাকতেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা। মাসে ৭০ হাজার টাকা ভাড়ায় দুই মাসের জন্য এখানে উঠেছিলেন তিনি। উদ্দেশ্য ছিল ভ্রমণ বিষয়ক তথ্যচিত্র নির্মাণ করা।

রিসোর্টের একজন কর্মী জানান, অমায়িক ব্যবহার ছিল মেজর সিনহা রাশেদের। ঘটনার ৫ দিন আগে তিনি এখানে জন্মদিন পালন করেন। গত ৩১ জুলাই রাতে শামলাপুর চেকপোস্টে মেজর নিহত হওয়ার পর রাত ১২টার দিকে রিসোর্টে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিনহার দুই সহযোগী শিপ্রা ও নুর।

এ বিষয়ে রিসোর্ট কর্মীরা জানান, তল্লাশি চালানোর সময় মেজরের নিহত হওয়ার তথ্য গোপন করে পুলিশ। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন এসপি মশিউর রহমান, হিমছড়ির আতিক, শফিসহ আরো দু-একজন। ঘটনার দুদিন পর তারা আবার এসে সুপারভাইজারের কাছ থেকে ব্ল্যাঙ্ক সই নিয়ে যায়।

রিসোর্ট থেকে কম্পিউটারের তিনটি হার্ডডিস্ক, একটি ল্যাপটপ ও একটি কম্পিউটার নিয়ে যায় পুলিশ। যদিও রামু থানার মামলার আলামতে এগুলো জব্দ করার কথা উল্লেখ করেনি তারা, যোগ করেন রিসোর্টের সুপারভাইজার।

mejor sinha rashedবাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান

গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা রাশেদ। পুলিশের পক্ষ থেকে ওই সময় বলা হয়, রাশেদ সিনহা তার পরিচয় দিয়ে ‘তল্লাশিতে বাধা দেন’। এর পর তিনি ‘পিস্তল বের করলে’ দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের কথাও জানায় পুলিশ। এ নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকেও মামলা করা হয়েছে।

এ ঘটনার বিচার চেয়ে টেকনাফ উপজেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারহার আদালতে ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন মেজর সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।

মামলার এজাহরভুক্ত আসামিরা হলেন- টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের প্রত্যাহার হওয়া পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) লিয়াকত আলী, উপ-পরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিত, সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, এএসআই টুটুল, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল মো. আবদুল্লাহ আল মামুন ও কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তফা। এর মধ্যে দুই আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। বাকি সাতজন আত্মসমর্পণ করেছেন।

পরে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ৭ আসামিকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। তদন্ত কর্মকর্তারা প্রত্যেক আসামির ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত প্রথমে ৩ জনের ৭ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পাশাপাশি বাকি ৪ জনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন। পরে আদালতের পক্ষ থেকে এ আদেশ পরিবর্তন করা হয়। পরিবর্তিত আদেশে ৭ আসামিকে ৭ দিন করে রিমান্ড দেওয়া হয়।

sheikh mujib 2020