advertisement
আপনি দেখছেন

বাংলাদেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি বিখ্যাত মেডিকেল সাময়ীকি দ্য ল্যানসেটে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে কয়েকজন ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের ওপর কী প্রভাব ফেলবে তা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি পরিস্থিতি আরো ‘খারাপ’ হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

lancet worried about bangladeshশনাক্তকরণ টেস্টের জন্য অপেক্ষা 

এতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপে উদ্বিগ্ন গণস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কারণ গত কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশে টেস্টের সংখ্যা কমে এসেছে। গত জুনে সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে, করোনা শনাক্তকরণ টেস্টের জন্য ২০০ টাকা করে ফি নেবে, আর বাড়িতে গিয়ে টেস্ট করাতে হলে ৫০০ টাকা ফি দিতে হবে। সরকারি ফি কম হলেও বেসরকারিভাবে তা ধার্য্য করা হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এই খরচ বহন করতে সক্ষম না।

জুনে শনাক্তকরণ ফি নির্ধারণের পরই টেস্টের সংখ্যা কমে এসেছে। দেখা যায়, টেস্ট ফি নির্ধারণের পর একদিনে প্রতি ১ হাজার মানুষের মধ্যে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ হারে টেস্ট হয়েছে। অথচ আগস্টে এসে টেস্টের এই হার দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ।

people standing in lineল্যানসেটে প্রকাশিত প্রতিবেদন

ল্যানসেটের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে দৈনিক ১২ থেকে ১৫ হাজার শনাক্তকরণ টেস্ট করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পৌনে ৩ লাখ মানুষ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ৩ হাজার ৬০০ জন।

এ প্রসঙ্গে গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমিনেন্সের প্রধান শামীম তালুকদার বলেন, করোনাভাইরাসের এই মহামারি দেশের স্বাস্থ্য খাতের অসঙ্গতিকে স্পষ্ট করে তুলেছে। প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই সরকার শনাক্তকরণ টেস্ট নিজের আয়ত্তে রাখার চেষ্টা করেছে। বেসরকারি খাতকে তারা সুযোগ দেয়নি। এখন তারা আবার টেস্টের ক্ষেত্রে ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে। এতে দরিদ্র জনগোষ্ঠী টেস্টের সুযোগ থেকে পিছিয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকার বেশ কয়েকটি কবরস্থান আমি ঘুরেছি। সেখানকার ম্যানেজাররা আমাকে জানিয়েছেন, সরকারি হিসাব থেকেও নাকি ৪ গুণ বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। অনেকের টেস্ট পর্যন্ত করা হচ্ছে না। আবার অনেকের টেস্ট রিপোর্ট আসার আগেই মৃত্যু হচ্ছে।

টেস্টের জন্য সরকারের ফি নির্ধারণ করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন আইইডিসিআর-এর সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, মহামারিতে অনেকেই কাজ হারিয়েছেন। এর ফলে আর্থিক কষ্টেও পড়তে হয়েছে তাদের। এ রকম একটি অবস্থায় ফি নির্ধারণ করে দেয়া উচিত হচ্ছে না।

ল্যানসেট বলছে, বাংলাদেশে এখন বর্ষা ঋতু চলছে। এ সময়ে দেশটিতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়। এবার সেই সঙ্গে আছে করোনার মহামারি। এমন একটি পরিস্থিতিতে দেশটিতে লাগামহীনভাবে ভাইরাসটির সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে।

sheikh mujib 2020