advertisement
আপনি দেখছেন

সম্প্রতি হঠাৎ করেই সীমান্তে সেনা মোতায়েন বাড়িয়েছে মিয়ানমার। তাদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডগুলোও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। এমতাবস্থায় পরিস্থিতি আরো উদ্বেগজনক করা থেকে মিয়ানমারকে বিরত রাখতে এবং অভিযানের নামে রোহিঙ্গাদের নিপীড়নের বিরুদ্ধে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নিতে জরুরি ভিত্তিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিঠি দিয়েছে নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন।

burma army rakhain newরাখাইনে মিয়ানমারের সেনা টহল

চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর সীমান্তের কাছে মংদাওর উত্তরের কয়েকটি স্থানে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে মিয়ানমার (পুরনো নাম বার্মা)। পরে ১৩ বা ১৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে সেখানকার একটি গ্রামে অভিযান চালায় তারা। এ সময় পাঁচ জন রোহিঙ্গা পুরুষ ও তিন জন নারীকে আটক করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ওই পাশ থেকে গুলির শব্দ পাওয়া গেছে।

'২০১৭ সালেও এসব ঘটনা ঘটেছিল। পরে মিয়ানমার তার নাগরিকদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠায়। যে সব স্থানে এই অভিযানগুলো চালানো হচ্ছে তাতে এটা স্পষ্ট যে, এগুলো মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড এবং এতে আরাকান আর্মির সংঘর্ষের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।'

রাখাইন ও চিন রাজ্যে এ ধরনের সহিংসতার কারণে বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে এবং তারা গণহারে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে উল্লেখ করে চিঠিতে আরো বলা হয়, গত কয়েক মাসে রাখাইনের নাগরিক ও বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য একাধিকবার বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছে। তারা যদি বেসামরিক নাগরিক ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে আবারও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের ঘটনা ঘটতে পারে।

un logoজাতিসংঘের লোগো

'বাংলাদেশকে না জানিয়ে সীমান্তে সেনা মোতায়েন করা, বিশেষ করে বেসামরিক নৌকায় করে সৈন্যদের পারাপারের কারণে ভুল বোঝাবুঝি এবং প্রতিকূল ঘটনা ঘটতে পারে। এতে করে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও বিঘ্নিত হতে পারে। এখানে উল্লেখ যে, শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বীকৃতিস্বরূপ উভয় দেশই সীমান্তবর্তী এলাকার কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদানে সীমান্ত মৈত্রী অফিস স্থাপনের বিষয়ে একমত হয়েছে।'

এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তে মিয়ানমারের মোতায়েন করা সৈন্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন চিঠিতে আহ্বান জানায়, সীমান্তে বেসামরিক ও সামরিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদানে মিয়ানমারের যে প্রতিশ্রুতি তার প্রতি তাদের শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

sheikh mujib 2020