advertisement
আপনি দেখছেন

পানির সঙ্গে কেমিক্যাল মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে দুধ। তারপর ভালো দুধের সঙ্গে এই ভেজাল তরল মিশিয়ে পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়। এমনই এক অসাধু ব্যবসায়ীকে অভিযান চালিয়ে আটক করেছে প্রশাসন। পাশাপাশি তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে এক বছরের কারাদণ্ড।

fake milk makerচাদর গায়ে আটক ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাক। ছবি- সংগৃহীত

আজ বুধবার ভোরে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ফুকুরহাটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে আবদুর রাজ্জাক (৬০) নামের এ দুধ ব্যবসায়ীকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম।

ইউএনও জানান, গোপনে তথ্য আসে ফুকুরহাটি গ্রামের মৃত বিষুরুদ্দিনের ছেলে রাজ্জাক ভেজাল দুধের ব্যবসা করে। তাই তাকে ধরতে আজ ভোরে অভিযান চালানো হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, তিনি পানির সঙ্গে ইকোজেড ও ইবারুড মিশিয়ে ভেজাল দুধ তৈরি করছেন।

তিনি আরো জানান, ভেজাল দুধ তৈরির জন্য রাজ্জাককে আটক করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নিরাপদ খাদ্য আইনের ২৫ ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৯টি গ্যালনে ২৭০ কেজি ভেজাল দুধ ও দুই কেজি এরারুড পাউডার জব্দ করা হয়। পরে সেগুলো ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়।

ইউএনও আরো বলেন, রাজ্জাকের মতো উপজেলার আরো কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এমন ভেজাল দুধ তৈরি করে ঢাকায় সরবরাহ করে বলে জানা গেছে। তাদের ধরতে এ অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।

ভেজাল দুধ তৈরি বিষয়ে আটক ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাক বলেন, এক মন পানির সঙ্গে ১০০ গ্রাম ইরারুড ও ৫ কেজি ইকোজেড ক্যামিকেল মিশালেই দুধের মতো তরল তৈরি হয়ে যায়। তারপর সেগুলো প্রতি ৪০ কেজি ভালো দুধের সঙ্গে ১৫ কেজি হারে মিশিয়ে ঢাকায় সরবরাহ করা হয়। এভাবেই প্রতিদিন ঢাকায় মহাজনদের কাছে ৮-৯ মণ দুধ পাঠান তিনি।

তিনি আরো বলেন, বাজারে ৭০-৮০ টাকায় প্রতি কেজি তরল দুধ বিক্রি হলেও মহাজনরা তাদের মাত্র ৫০ টাকা করে দেন। তাই এ উপজেলার প্রায় সবাই এভাবে দুধে ভেজাল মিশিয়ে মহাজনদের কাছে বিক্রি করে।

sheikh mujib 2020