advertisement
আপনি দেখছেন

হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের নামে দায়ের করা ‘ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা’ মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান হেফাজত আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

junaid babungariআল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, ফাইল ছবি

গণমাধ্যমে বিবৃতিটি পাঠিয়েছেন হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। এতে জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, গত ২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররমে বিনা উস্কানিতে মুসল্লিদের ওপর হেলমেট পরিহিত ও চাপাতি-রামদা নিয়ে আক্রমণ চালায় একদল সন্ত্রাসী। পুলিশও মুসল্লিদের ওপর গুলি চালায়।

আত্মরক্ষার্থে মুসল্লিরা গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেদিনের সংঘাতে কারা সহিংসতা উস্কে দিয়েছিল তা ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গেছে। ভিডিওগুলো দেশের মানুষ দেখেছে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ঘটনাটি প্রচারিত হয়।

ওই দিন হেফাজতের কোনো কর্মসূচি ছিল না জানিয়ে বাবুনগরী বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ১৭ জন নেতার নামে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। এসব মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

mamunul hefazat dhakaবায়তুল মোকাররমে বক্তব্য দিচ্ছেন মামুনুল হক, ফাইল ছবি

এটি করা না হলে আলেম-ওলামার সঙ্গে বাড়াবাড়ির জন্য জনগণের কাছে সরকার আরো ঘৃণিত ও নিন্দিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিবৃবিতে বলা হয়, কাউকে ক্ষমতা থেকে নামানো বা কাউকে ক্ষমতায় বসানোর কাজ হেফাজতের নয়।

অরাজনৈতিক সংগঠনটি শান্তিপ্রিয় ও সহিংসতার বিরুদ্ধে উল্লেখ করে বাবুনগরী বলেন, হামলা-মামলা ও দমন-পীড়ন চাললে সহিংসতা বন্ধ করা যাবে না। প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করা জনগণের সাংবিধানিক অধিকার মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, এই অধিকার হরণ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

সরকারের উদ্দেশে বিবৃতিতে বলা হয়, বিদেশি আধিপত্যবাদী শক্তির প্ররোচনায় আত্মঘাতী ও হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

hefazat e islam 1হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের লোগো

প্রসঙ্গত, গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বায়তুল মোকাররমে ব্যাপক ভাঙচুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হেফাজতের ভাংচুরের ঘটনায় গত ৫ এপ্রিল পল্টন থানায় মামলাটি করেন যুবলীগ নেতা খন্দকার আরিফ-উজ-জানান। এতে হেফাজত নেতা মামুনুল হকসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মাওলানা নুরুল ইসলাম জেহাদী, মাজেদুর রহমান, মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়্যুবী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা লোকমান হাকিম, মাওলানা মাসুদুল করিম, মুফতি মনির হোসাইন কাশেমী, মাওলানা যাকারিয়া নোমান ফয়েজী, নাসির উদ্দিন মনির, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা জসিম উদ্দিন, মাওলানা ফয়সাল আহমেদ, মাওলানা মুশতাকুন্নবী, মাওলানা হাফেজ মো. জোবায়ের এবং মাওলানা হাফেজ মো. তৈয়ব।