advertisement
আপনি দেখছেন

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস প্রতিরোধী গণ-টিকাদান কর্মসূচিতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ৫ নম্বরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ এক্ষেত্রে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ৪টি দেশ এবং পিছিয়ে রয়েছে ৩টি দেশ। টাস্কফোর্স অন কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

bangladesh cv vacc programগণটিকা কর্মসূচিতে দক্ষিণ এশিয়ায় পঞ্চম বাংলাদেশ, ফাইল ছবি

ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আইএমএফ, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত সংস্থাটির ওয়েবসাইটে গতকাল শুক্রবার এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে থাকা তিনটি দেশ হলো- আফগানিস্তান, ভুটান ও মালদ্বীপ। আর এগিয়ে থাকা দেশগুলো হলো- ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা।

সংস্থাটি জানিয়েছে, গড়ে প্রতি সপ্তাহে বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জন মানুষের মধ্যে কোভিড-১৯ টিকা নিচ্ছেন শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ মানুষ। এই হার ভারতে শূন্য দশমিক ৩১। এ ছাড়া পাকিস্তানে শূন্য দশমিক ১৯, নেপালে শূন্য দশমিক ৩৩ এবং শ্রীলঙ্কায় ১ দশমিক ৬৩।

corona 2021করোনাভাইরাসের প্রতীকী ছবি

অন্যদিকে, বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে থাকা তিন দেশে এই হার আফগানিস্তানে শূন্য দশমিক ০৫, ভুটানে শূন্য দশমিক ০৪ এবং মালদ্বীপে শূন্য দশমিক ০৮ শতাংশ।

কোভিড-১৯ বিষয়ক এই বিশেষ টাস্কফোর্সের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, যে গতিতে বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচি চলছে, তা অব্যাহত থাকলে চলতি বছর শেষে দেশটির মোট জনসংখ্যার ১৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ মানুষ টিকা কর্মসূচির আওতায় আসতে পারে।

mass cv vacc program startedগত ৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে গণ-টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ফাইল ছবি

এতে আরো বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি ৪০ লাখ ৭০ হাজার। বাংলাদেশ সরকার চলতি ২০২১ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশ এবং পরের বছর ২০২২ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৬০ শতাংশ মানুষকে টিকা কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে সেই লক্ষ্য কখনোই পূরণ হওয়া সম্ভব নয়।

সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই ৪০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হলে বাংলাদেশ সরকারকে সাপ্তাহিক টিকাদানের হার শূন্য দশমিক ৪৯-এ উন্নীত করতে হবে। এ ছাড়া ২০২২ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৬০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য পূরণ করতে হলে সাপ্তাহিক টিকাদানের হার শূণ্য দশমিক ৩৫-এ উন্নীত করতে হবে।

এতে বলা হয়েছে, দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকাদানের পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। অথচ চলতি জুলাইয়ের ২৫ তারিখ পর্যন্ত দেশটিতে করোনার টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৭০ লাখ ৫৬ হাজার মানুষ। আর টিকার ডোজ সম্পূর্ণ করেছেন বা দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৪০ লাখ ৩০ হাজার মানুষ।

করোনা বিষয়ক টাস্কফোর্সের ওয়েবসাইটে আরো বলা হয়েছে, টিকা কর্মসূচি চালিয়ে নিতে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত মোট ১৫ কোটি ৮০ লাখ ১০ হাজার ডোজ টিকা কেনার চুক্তি করেছে। বিপরীতে এসব চুক্তির আওতায় দেশটি এ পর্যন্ত মোট ২ কোটি ৫০ লাখ ৮০ হাজার ডোজ টিকা পেয়েছে।