advertisement
আপনি দেখছেন

নতুন ধারার রাজনীতির অঙ্গীকার নিয়ে ২৬ অক্টোবর, মঙ্গলবার, আত্মপ্রকাশ করে রাজনৈতিক দল ‘বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদ’। এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ তথা ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর ও অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া। এই দুই নেতাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে আজ বুধবার।

gono odhikarদলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতারা

গণ অধিকার পরিষদ আত্মপ্রকাশের দিনই দলটিকে নিষিদ্ধের দাবি তোলা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক আল মামুন এই আবেদন করেছেন। সাম্প্রদায়িক হামলার নির্দেশ ও মদদদানের অভিযোগে করা আবেদনটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে গ্রহণ করেছে রাজধানীর শাহবাগ থানা পুলিশ।

এতে রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হকের পাশাপাশি নাম রয়েছে যুব অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক রহমানের। তাদের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহের’ অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গেছে আবেদন সূত্রে। তবে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চকে ‘ভুঁইফোড় ও দুর্বৃত্তদের সংগঠন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন নুরুল হক নুর।

ডাকসুর ভিপি থাকাকালে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের হামলা-মামলার শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক মামলা দিয়েছে সরকারি দলের নেতাকর্মীরাও। রাজনৈতিক দল গঠন করতে গিয়েও হুমকি-ধমকি পেয়ে আসছি। এখন দল ঘোষণার পর বিব্রত করার পাশাপাশি প্রশ্নবিদ্ধ করতে সাম্প্রদায়িক ট্যাগ লাগানোর ষড়যন্ত্র চলছে। সুবিধাবাদী গ্রুপটির পেছনে দেশি-বিদেশি দুষ্টচক্র থাকতে পারে।

মামলার আবেদনের বিষয়ে নুরুল হক নুর বলেন, এ নিয়ে আমরা মোটেও চিন্তিত না। এটি দরকার হলে রাজনৈতিকভাবে, আইনগতভাবে মোকাবেলা করা হবে। চট্টগ্রামে হামলার ঘটনায় আমাদের কেউ জড়িত থাকলে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হোক। সেটিকে রাজনীতিকীকরণ করে বিরোধীদের জড়িয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা দুঃখজনক। এটি সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যর্থতা।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি মওদূত হাওলাদার বলেন, এটি রাজনৈতিক বিষয় হওয়ায় পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা মতো সাইবার অপরাধ বিভাগে পাঠানো হবে। সেখানে যাচাই-বাছাই শেষে মতামত এলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ দাবি তোলে, রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক নুরকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। তারা দেশব্যাপী সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক হামলার মদদদাতা, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে তারা।

এ ছাড়া চট্টগ্রামের ঘটনায় ‘জঙ্গি ও সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ছাত্র, যুব ও গণ অধিকার পরিষদ নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়। আজ মামলার আবেদনেও সেইসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।