advertisement
আপনি পড়ছেন

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে চলমান ১১ দফা বিধিনিষেধ না মানলে লকডাউন দেওয়া হতে পারে। সেটা করা হলে দেশ ও দেশের মানুষই ক্ষতির সম্মুখীন হবে, তাই সবারই উচিত সরকারের ঘোষিত ১১ দফা বিধিনিষেধ মেনে চলা।

health minister manikgonj hospitalমানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ডায়ালাইসিস ইউনিট ও সিটি স্ক্যান মেশিন উদ্বোধন শেষে আজ শনিবার, ১৫ জানুয়ারি, দুপুরে উপস্থিত সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

জাহিদ মালেক বলেন, দেশে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েই চলছে করোনা সংক্রমণ। সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের পক্ষ থেকে যে ১১ দফা বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে, তা না মানলে দেশের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। লকডাউন আরোপ হলে দেশের অনেক ক্ষতি হবে। সেজন্য সেদিকে যেতে চাই না আমরা। তাই সবারই উচিত, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। সেটা যদি করা না হয়, তাহলে লকডাউন দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।

এর আগে গত ১০ জানুয়ারি নতুন করে দেশে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ১১ দফা বিধিনিষেধ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গত ১৩ জানুয়ারি থেকে এই বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১১ দফা বিধিনিষেধ চলবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

১১ দফা বিধিনিষেধে যা বলা হয়েছে— ১. বাজার, দোকান ও শপিংমলে ক্রেতা ও বিক্রেতা এবং হোটেল ও রেস্তোরাঁসহ সকল জনসমাগমস্থলে সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরতে হবে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ২. অফিস-আদালতসহ অন্যান্য কর্মক্ষেত্র তথা ঘরের বাইরে অবশ্যই সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে যাতে কোনো প্রকারের ব্যত্যয় না ঘটে সেজন্য সারাদেশে মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।

৩. হোটেল-রেস্তোরাঁয় বসে খাবার গ্রহণ করতে হলে এবং আবাসিক হোটেলে অবস্থানের ক্ষেত্রে অবশ্যই করোনার টিকা গ্রহণের সনদ দেখাতে হবে। ৪. শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত তারিখের পর ১২ বছরের বেশি বয়সী সব শিক্ষার্থীকে অবশ্যই টিকার সনদ দেখাতে হবে। তা না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

৫. দেশের সকল স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর এবং বিমানবন্দরে স্ক্রিনিংয়ের সংখ্যা জোরদার করতে হবে। পোর্টগুলোতে ক্রুরা যাতে জাহাজের বাইরে আসতে না পারেন সেজন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করতে করতে হবে। দেশের স্থলবন্দরগুলোতে আগত ট্রাকের সঙ্গে শুধু চালকরা থাকতে পারবেন। তাদের সঙ্গে কোনো সহকারী থাকতে পারবেন না। বিদেশগামীদের সঙ্গে আসা দর্শনার্থীরা যাতে বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে না পারেন সেজন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৬. ট্রেন, বাস এবং লঞ্চে ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করতে হবে। এ বিষয়ে কার্যকারিতার তারিখসহ সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সকল যানবাহনের চালক ও সহকারীদের আবশ্যিকভাবে কোভিড-১৯ টিকার সনদধারী হতে হবে। ৭. যেসব যাত্রী বিদেশ থেকে আসবেন তাদের সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে কোভিড-১৯ টিকার সনদ প্রদর্শন করতে হবে।

৮. সব মসজিদে জুমার নামাজের খুতবায় ইমামরা স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন এবং মাস্ক পরার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন করবেন। আর এ বিষয়টি নিশ্চিত করবেন জেলা প্রশাসক, ডিসি, এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা ইউএনওরা। ৯. স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সর্বসাধারণের করোনার টিকা এবং বুস্টার ডোজ গ্রহণ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রচার ও উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এক্ষেত্রে তাদের সহায়তা করবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

১০. উন্মুক্ত স্থানে সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সমাবেশ বন্ধ রাখতে হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকবে। ১১. কোনো এলাকায় বিশেষ কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিতে পারবে স্থানীয় প্রশাসন।