advertisement
আপনি পড়ছেন

একই সময়ে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা এবং বাংলাদেশের ঢাকায় মেট্রোরেলের কাজ শুরু হয়েছিল। কিছুটা কাকতালীয় ব্যাপার হলো, দুটি প্রকল্পের দৈর্ঘ প্রায় একই এবং উভয়টিতেই অর্থায়ন করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। কিন্তু পার্থক্য হলো, জাকার্তার চেয়ে ঢাকায় এর নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৩ গুণ অর্থ!

metrorail trainঢাকায় চলছে মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ

পার্থক্যটা এখানেই শেষ নয়, একই সময়ে কাজ শুরু হলেও জাকার্তার বাসিন্দারা ২০১৯ সালের মার্চ মাসেই মেট্রোরেল ব্যবহার করা শুরু করেছেন। অন্যদিকে, ঢাকায় মেট্রোরেলের কাজ শেষ হওয়ার লক্ষ্য বারবার পিছিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ। শেষ পর্যন্ত এই লক্ষ্য ঠিক থাকে কি-না, সেটা নিয়েও সন্দেহ করছেন অনেকে।

তবে অতিরিক্ত সময় নয়, আলোচনা হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় নিয়ে। এ নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও সংশ্লিষ্টদের কাছে পরিষ্কার কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। বণিক বার্তার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, শুধু ইন্দোনেশিয়ার তুলনায় নয়, ঢাকায় মেট্রোরেল খরচের দিক থেকে এশিয়ার মধ্যে শীর্ষে। এখানে মেট্রোরেলের প্রতি কিলোমিটারে খরচ হচ্ছে ২ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

metrorail projectজাকার্তার চেয়ে ৩ গুণ বেশি ব্যয় ঢাকায়

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, ভারতের দিল্লিতে এর চেয়ে ৩ গুণ কম খরচে তৈরি হয়েছে মেট্রোরেল। অর্ধেকেরও কম খরচে মেট্রোরেল তৈরি হয়েছে পাকিস্তানের লাহোরে। সবচেয়ে কম খরচে এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে চীন। দেশটির সাংহাই শহরে যে মেট্রোরেল তৈরি হয়েছে তা ঢাকার খরচের তুলনায় ৫ গুণ কম!

ঢাকায় চলমান মেট্রোরেল প্রকল্পের ক্ষেত্রে বর্তমানে খরচের যে পরিমাণ দাঁড়িয়েছে, শুরুতে তেমনটা ছিল না। এ পর্যন্ত একাধিকবার নকশায় সমস্যা দেখা দেওয়ার কারণে প্রকল্পের খরচ যেমন বেড়েছে, তেমনি সময়ও বাড়ানো হয়েছে। দিনকয়েক আগে নকশায় আরও একদফা সমস্যা দেখা দেওয়ায় নতুন করে যে খরচ যোগ হয়েছে তাতে প্রকল্পটি ছাড়িয়ে যাচ্ছে পদ্মা সেতুর খরচকেও।

বহুল আকাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতুতেও একাধিকবার খরচ বাড়ানো হয়েছিল। অবশেষে সেই প্রকল্প থেমেছে ৩০ হাজার ১৯২ কোটি টাকায়। মেট্রোরেলের ক্ষেত্রে নতুন করে যে খরচ চাওয়া হয়েছে, সেটা যোগ হলে মোট খরচ দাঁড়াবে ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এই তথ্য জানিয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি (ডিএমটিসিএল)।