advertisement
আপনি দেখছেন

দেশের একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে পড়ছেন ফয়সাল রহমান। কিন্তু তার স্বপ্ন হলো কানাডার কোন একটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া। একইসঙ্গে পড়াশুনা শেষ করে পরবর্তীতে সেখানে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়া। কিন্তু কিভাবে কানাডায় ভর্তি এবং স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া সম্ভব?

higher education in canadaকানাডায় উচ্চশিক্ষা এবং স্থায়ী আবাসনের সুযোগ

কানাডার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজে প্রধানত দু'টি সেশনে ভর্তি হওয়া যায়। ফল এবং উইন্টার। বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজের ওয়েবসাইটে ভর্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য দেওয়া থাকে, যা দেখে একজন শিক্ষার্থী সহজেই অনলাইনে আবেদন করতে পারেন।

অনেক শিক্ষার্থী ভাবেন যে, কানাডায় গিয়ে খণ্ডকালীন কাজ করে সম্পূর্ণ টিউশন ফি ব্যবস্থা করা সম্ভব। কিন্তু তাদের এই চিন্তাটি সম্পূর্ণ অমূলক। কারণ কানাডায় একজন শিক্ষার্থী সপ্তাহে মাত্র বিশ ঘন্টা কাজ করতে পারেন, যা দিয়ে তার থাকা-খাওয়ার খরচ হয়তো মিটানো সম্ভব, কিন্তু টিউশন ফি নয়।

আবার কানাডার কোন ছোট শহরের বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কলেজে ভর্তি হওয়ার পর প্রথমেই যে সমস্যাটা দেখা দিতে পারে সেটি হলো খন্ডকালীন কাজ ব্যবস্থা করা। যেমন, সম্প্রতি নাজমুল হাসান নামের এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ক্যামলুপস শহরের থমসন রিভার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান। কিন্তু পাহাড় ঘেরা ক্যামলুপস একটি ছোট শহর এবং সেখানে কাজের ব্যবস্থা করাও ছিল কঠিন। একইভাবে আরেক বাংলাদেশি সিনথিয়া ইসলাম অন্টারিও প্রভিন্সের কিচেনার শহরের কানেসতোগা কলেজে একটি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা প্রোগ্রামে পড়তে যান। কিন্তু একইভাবে কিচেনারেও খণ্ডকালীন কাজের অভাব।

কাজেই নাজমুল কিংবা সিনথিয়ার মতো অনেক শিক্ষার্থী খণ্ডকালীন কাজ যোগাতে পরবর্তীতে বড় শহরের কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শর্ত সাপেক্ষে চলে যান। তবে সেদেশে ছাত্রত্ব বজায় রাখতে হলে একজন শিক্ষার্থীকে নিয়মিত ক্লাস করার পাশাপাশি পরীক্ষা দিতে হয়। একইসঙ্গে টিউশন ফি-ও যথাসময়ে পরিশোধ করতে হয়।

নিজস্ব অর্থায়নে কানাডায় যাওয়া অনেক শিক্ষার্থী নিজের স্পাউসকে সঙ্গে নিয়ে যেতে চান। ওপেন ওয়ার্ক পারমিটের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে তার স্পাউসকে কানাডায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। উল্লেখ্য যে, নিজস্ব অর্থায়ন ছাড়াও কানাডায় বিভিন্ন স্কলারশীপ প্রোগ্রাম রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী কানাডার নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সুযোগ পেতে পারেন।

কানাডায় পড়তে আসা একজন শিক্ষার্থীর আসলেই যথেষ্ট পরিশ্রম হয়। পড়াশুনা চালিয়ে যাবার পাশাপাশি তাকে কাজও করতে হয়। কিন্তু দীর্ঘ এই পরিশ্রম বৃথা যায় না। কারণ, বর্তমানে কানাডা সরকার শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ কিছু সুবিধা দিয়েছে। পড়াশুনা শেষ করে শিক্ষার্থীরা ওয়ার্কপারমিট পান এবং পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্যে আবেদন করতে পারেন। কানাডার প্রভিন্সগুলোর মধ্যে সাসকাচুয়ান, ম্যানিটোবা, নিউ ফাউণ্ডল্যান্ড এ্যাণ্ড ল্যাব্রাডরে শিক্ষার্থীদের স্থায়ীভাবে আবাসনের সুযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে অন্টারিও প্রভিন্সের মাস্টার্স প্রোগ্রাম কমপ্লিট করার পরেও একজন শিক্ষার্থী স্থায়ীভাবে থেকে যাবার জন্যে আবেদন করতে পারেন। সম্প্রতি রুরাল এ্যাণ্ড নর্দার্ন পাইলট প্রোগ্রামটিও শিক্ষার্থীদেরকে আশার আলো দেখাচ্ছে।

ইমিগ্রেশন এ্যাণ্ড সেটেলমেন্ট টিমের ভলান্টিয়ারগণ বিনামূল্যে তাদের ওয়েবসাইট এবং ফোরামের মাধ্যমে কানাডার স্টুডেন্ট ভিসা এবং ইমিগ্রেশনের সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। আপনিও চাইলে তাদের ওয়েবসাইট এবং ফোরাম থেকে ঘুরে আসতে পারেন:

ওয়েবসাইট: http://immigrationandsettlement.org/Home/Index

ফোরাম: http://forum.immigrationandsettlement.org/