advertisement
আপনি দেখছেন

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে এবার অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা হয়েছে।

saifur rahman mc collegeসাইফুর রহমান

আজ শনিবার শাহপরাণ থানার এসআই মিল্টন সরকার বাদী হয়ে মামলাটি করেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের ঘটনায় শুক্রবার রাতে মামলা হওয়ার পর আজ শনিবার ভোররাতে ছাত্রাবাসে সাইফুর রহমানের কক্ষে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় একটি পাইপগান, চারটি রামদা, একটি ছুরি ও দুটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়।

এ ব্যাপারে শাহপরাণ থানার ওসি কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, গণধর্ষণের ঘটনায় যে ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের মধ্যে প্রধান আসামি সাইফুর রহমানের কক্ষ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার নামে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

mc college sylhetঅভিযুক্তদের কয়েকজন

এর আগে একই থানায় শুক্রবার দিবাগত রাতে ধর্ষণের মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগীর স্বামী।

ওসি আব্দুল কাইয়ুম মামলার হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মামলায় সরাসরি জড়িত হিসেবে ৬ জন এবং সহযোগী হিসেবে ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ধর্ষণ মামলার আসামিরা হলেন- উল্লিখিত ছাত্রলীগ নেতা এম সাইফুর রহমান এবং ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি। এ ছাড়া অভিযুক্ত ৬ জনের মধ্যে রয়েছেন তারেক আহমদ, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাছুম। এর মধ্যে তারেক ও রবিউল বহিরাগত এবং বাকি চার জন এমসি কলেজের শিক্ষার্থী।

এদের মধ্যে সাইফুর রহমানের বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জে। এ ছাড়া রনি হবিগঞ্জ, তারেক সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর, অর্জুন জকিগঞ্জ, রবিউল সুনামগঞ্জের দিরাই এবং মাছুমের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলায়।

উল্লেখ্য, নববিবাহিতা স্ত্রীকে নিয়ে গাড়িতে করে শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজে বেড়াতে যান দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার এক বাসিন্দা। কলেজ ক্যাম্পাসে যাওয়ার পর আসামিরা তাদের জোর করে কলেজের ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়।

এ সময় ওই স্বামীকে আটকে স্ত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে অভিযুক্তরা। শাহপরাণ থানার পুলিশ খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

এর পর ওই নারীকে চিকিৎসার জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া মারধরের শিকার ওই স্বামীও সেখানে চিকিৎসা নিয়েছেন।

sheikh mujib 2020