advertisement
আপনি পড়ছেন

মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত সাবেক হাইকমিশনার এম খায়রুজ্জামানকে বাংলাদেশের অনুরোধে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামজা জাইনুদ্দিন। এরপর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানান, যত দ্রুত সম্ভব তাকে দেশে ফেরত আনা হবে। এবার খবর এসেছে, খায়রুজ্জামানকে ঢাকার কাছে হস্তান্তরের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

m khairuzzaman former high commissionerএম খায়রুজ্জামান, ফাইল ছবি

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, গত শুক্রবার এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কুয়ালালামপুরের একটি আদালত। খায়রুজ্জামানের পক্ষে দায়ের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়। রিটটির ওপর কবে নাগাদ শুনানি হবে, তা আগামীকাল সোমবার নির্ধারিত হতে পারে।

এ বিষয়ে খায়রুজ্জামানের আইনজীবী এ এস ঢালিওয়াল ফ্রি জানান, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা, ইউএনএইচিআর কার্ডধারী খায়রুজ্জামান রাজনৈতিক শরণার্থী। অভিবাসন আইন লঙ্ঘন না করার পরেও তাকে গ্রেপ্তার করা বেআইনি। বৈধ ভ্রমণ নথিপত্র আছে, কোনো কাজ করেননি এখানে। বাড়িতে অবস্থান করা একজন শরণার্থীকে বহিষ্কার করার অধিকার নেই মালয়েশিয়ার।

bangladesh malaysiaবাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পতাকা

এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি মালয়েশীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, যথাযথ প্রক্রিয়া মেনেই এম খায়রুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইদিন শাহরিয়ার আলম জানান, মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া খায়রুজ্জামানকে শিগগিরই দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

ডিপোটেশন সেন্টারে খায়রুজ্জামানকে কারাঅন্তরীণ করে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যতদূর আমি বুঝতে পারছি- তাকে আবারো সশরীরে জিজ্ঞাসাবাদ এবং মামলাটির বিষয় খতিয়ে দেখার সুযোগ আছে। সেটা অবশ্য ভালো বলতে পারবে আইন মন্ত্রণালয়। তবে যতটা দ্রুত সম্ভব, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি আমরা।

১০ বছরের বেশি সময় ধরে দেশটিতে অবস্থান করা এই বাংলাদেশিকে গত ৯ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন পুলিশ। কুয়ালালামপুরের আম্পাং এলাকা থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করার কথা জানানো হয়। অবসরপ্রাপ্ত মেজর এম খায়রুজ্জামান ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কুয়ালালামপুরে ঢাকার হাইকমিশনার নিযুক্ত হন। এ ছাড়া মিশর, ফিলিপাইন ও মিয়ানমারেও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

জানা যায়, এম খায়রুজ্জামানের বিরুদ্ধে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেল হত্যার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনারের পদ থেকে তাকে বরখাস্ত করে এবং দেশে ফেরার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তিনি দেশে না ফিরে সেখানেই শরণার্থী হিসেবে রয়েছেন।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেল হত্যার ঘটনার পর খায়রুজ্জামানকে সেনাবাহিনী থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর মিশর ও ফিলিপাইনে বাংলাদেশ মিশনে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর তাকে অবসরে পাঠিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু ২০০৩ সালে আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্তি পান এম খায়রুজ্জামান। এরপর ২০০৫ সালে তাকে মিয়ানমারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।