advertisement
আপনি দেখছেন

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের ফরেস্ট অফিস এলাকায় বাড়ি মো. ইবাদুর রহমান ইমনের। গত ৩ মাস আগে ঠেলাগাড়ি চালক বাবা এবং দাদির কাছ থেকে কিছু টাকা নেন। পাশাপাশি নিজের জমানো টাকা মিলিয়ে ৯১ হাজার দিয়ে একটি ইজিবাইক কেনেন এবং তা দিয়ে অসহায়, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও নামাজিদের ফ্রি সার্ভিস দিয়ে আসছেন।

oto driver imon

জানা যায়, যাদের সামর্থ্য নেই বিশেষ করে অসহায়, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের থেকে ভাড়া নেন না তিনি। পাশাপাশি প্রতি শুক্রবার নামাজি যাত্রীদের ফ্রিতে গন্তব্যে পৌঁছে দেন। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা এবং দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ফ্রি সেবা দেন এই ইজিবাইক চালক। আর বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০/১১টা পর্যন্ত নিজের রুটি-রুজির জন্য ভাড়ায় চালান।

ইজিবাইকের সামনে একটি স্টিকার লাগিয়েছেন তিনি। সেখানে উল্লেখ করা আছে, ‘অসহায়, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ফ্রি সার্ভিস এবং প্রতি শুক্রবার নামাজি মুসল্লিদের জন্য ফ্রি সার্ভিস।’

দেশীয় একটি গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইবাদুর রহমান ইমন বলেন, অর্থের অভাবে ক্যান্সারে আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসা করাতে পারেননি। ২০১৮ সালে তার মা মারা যান। বাবা ঠেলাগাড়ি চালক। ছোটবেলা থেকে অভাব-অনটনে বড় হওয়ায় গরীবের দুঃখ-কষ্ট বুঝতে পারেন।

তাই গরীবদের নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু সামর্থ্য না থাকায় সেটা আর হয়ে ওঠে না। তবে যতটুকু সামর্থ্য আছে তা দিয়েই অসহায় মানুষদের সেবা করতে পেরে খুশি ইমন।

oto driver imon1

তিনি বলেন, ফ্রি সার্ভিস না দিয়ে সারাদিন ভাড়া তুললে হয়তো ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা আয় হতো। কিন্তু নিজের জন্য আয় করি বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০/১১টা পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয়। তা দিয়ে নিজের এবং সংসারের খরচ ভালোভাবেই চলে যায়।

ছেলের এমন কাজে বাবা বাবলা মিয়া (৪৩) অনেক খুশি। এভাবে মানবসেবা করে যাওয়ার জন্য ইমনকে উৎসাহ যোগান তিনি।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর রমুজ মিয়া বলেন, অসহায় ও নামাজিদের জন্য একজন ইজিবাইক চালকের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। তার কাছ থেকে সবার অনেক কিছু শেখার আছে।