advertisement
আপনি পড়ছেন

এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বা এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার সবচেয়ে দ্রুততম মাধ্যম হলো বিমান। এর মাধ্যমে কয়েক হাজার কিলোমিটারের দূরত্ব অতিক্রম করা যায় মাত্র কয়েক ঘণ্টায়। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই বিমানের মাধ্যমে যাত্রী বা পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে পৃথিবীতে এমনও কিছু দেশ রয়েছে যাদের নেই কোনো নিজস্ব বিমানবন্দর। সেসব দেশের নাগরিকরা অন্য দেশের বিমানবন্দর ব্যবহার করে আকাশপথে যাতায়াত করে থাকেন।

flight take offনিজস্ব বিমানবন্দর নেই যেসব দেশে- প্রতীকী ছবি

নিজস্ব বিমানবন্দর নেই এমন দেশগুলো নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দৈনিক আজকাল। চলুন জেনে নেয়া যাক সেসব দেশ সম্পর্কে।

ভ্যাটিকান সিটি: এটি হলো বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম দেশ। দেশটির মোট আয়তন মাত্র ০ দশমিক ৪৯ বর্গ কিলোমিটার। দেশটি ইতালির মাঝে অবস্থিত। এর গা ঘেঁষে রয়েছে ইতালির রাজধানী রোম। দেশটি এতটাই ক্ষুদ্র যে এখানে কোনো বিমানবন্দর স্থাপনের সুযোগই নেই। তবে বাসিন্দাদের আকাশপথে চলাচলের জন্য পশ্চিম অংশে একটি হ্যালিপ্যাড রয়েছে। কোনো দেশের রাষ্ট্রনায়করা যদি ভ্যাটিক্যান সিটিতে আসেন তাহলে হ্যালিকপ্টারের মাধ্যমে ওই পোর্টে এসে নামেন। দেশটির নিকটতম বিমানবন্দর হলো ইতালির রোমে অবস্থিত সিয়ামপিনো বিমানবন্দর। অন্য দেশের নাগরিকরা এ বিমানবন্দরে নেমে তারপর সড়কপথে ভ্যাটিকান সিটিতে যেতে পারেন।

vatican cityপৃথিবীর ক্ষুদ্রতম দেশ ভ্যাটিকান সিটি- ফাইল ছবি

মোনাকো: এটি হলো বিশ্বের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ। দেশটির মোট আয়তন ২ দশমিক ১ বর্গকিলোমিটার। এর এক পাশে রয়েছে ফ্রান্স অন্য পাশে সমুদ্র। এই দেশটিতেও নেই কোনো নিজস্ব বিমানবন্দর। এর নিকটবর্তী বিমানবন্দর হলো ফ্রান্সের নাইসের কোর্ট ডি আনজুর বিমানবন্দর। এ বিমানবন্দর থেকে গাড়িতে করে মোনাকো যেতে মাত্র ২৫ মিনিট সময় লাগে।

সান মারিনো: আরো একটি ক্ষুদ্রতম দেশ হলো ইউরোপের সান ম্যারিনো। আয়তনের দিক দিয়ে এটি পৃথিবীর পঞ্চম ক্ষুদ্রতম দেশ। এর মোট আয়তন ৬১ দশমিক ২ বর্গ কিলোমিটার। এটি একটি পর্বতময় দেশ। যার চারপাশ ঘিরে রেখেছে ইতালি। এর নিকটতম বিমানবন্দর হলো ইতালির রিমিনি শহরে অবস্থিত ফেলিনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

san marinoপর্বতময় দেশ সান ম্যারিনো- ফাইল ছবি

লিচেনস্টেইন: এটি একটি ইউরোপের দেশ। এর অবস্থান অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ডের মাঝখানে। দেশটির মোট আয়তন ১৬০ বর্গকিলোমিটার। আয়তনের দিক দিয়ে খুব ছোট এ দেশটিরও নেই কোনো নিজস্ব বিমানবন্দর। তবে দেশটির দক্ষিণে অবস্থিত বালজারস শহরে একটি হ্যালিপ্যাড রয়েছে। যা দিয়ে হ্যালিকপ্টার উঠানামা করে। দেশটির নিকটতম বিমানবন্দর হলো সুইজারল্যান্ডের গ্যালেন আলটেনহেইন বিমানবন্দর। দূরত্বের দিক দিয়ে যা মাত্র ৩৮ কিলোমিটার। তবে জার্মানির ফ্রিয়েজরিখশাফেন বিমানবন্দর দিয়েও পৃথিবীতে সবচেয়ে কম অপরাধের দেশটিতে যাওয়া যায়।

আন্ডোরা: সবুজ পাহাড় আর উচ্চভূমির এক অপূর্ব সুন্দর দেশ হলো আন্ডোরা। এর মোট আয়তন ১৬৭ দশমিক ৬৩ বর্গ কিলোমিটার। এর একপাশে স্পেন এবং অন্যপাশে ফ্রান্স। দেশটিতে নেই কোনো নিজস্ব বিমানবন্দর। তাই অন্যদেশের বিমানবন্দর ব্যবহার করে যাতায়াত করেন দেশটির নাগরিকরা। এর নিকটতম বিমানবন্দর হলো স্পেনের গিরোনা-কস্টা ব্রাভা বিমানবন্দর। তবে ফ্রান্সের বিমানবন্দরও ব্যবহার করেন দেশটির বাসিন্দারা।