advertisement
আপনি পড়ছেন

রক্তের ঋণের কথা শোনা যায়, এবার শোনা গেল বাদামের ঋণের কথা। ছোটবেলায় ফ্রি বাদাম খাইয়েছিলেন। টাকা না থাকার কথা জানালেও বাদাম খাওয়ার মজা থেকে দুই ভাইবোনকে বঞ্চিত করেননি সেইদিনের সেই হকার। ফ্রিতে বাদাম পেয়ে হতবাক দুই ভাইবোন জানিয়েছিলেন, একদিন তাদের টাকা হলে তারা বাদামের টাকা ফেরত দেবেন। তারা তাদের কথা রেখেছেন। তবে সেই দায় শোধ করা হলো মরণোত্তর।

nut sellerবাদামওয়ালার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন দুই ভাই বোন

ঘটনাটি দশ-বারো বছর আগের। ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা নেমানি প্রণব ও তার বোন সুচিথা সেদিন বাবার সাথে সমুদ্র সৈকতেবেড়াতে গিয়েছিলেন। তাদের আবদারে বাদাম নিয়ে দিয়েছিলেন তাদের বাবা। কিন্তু টাকা দিতে গিয়ে দেখেন মানিব্যাগই ফেলে এসেছেন বাসায়। ততক্ষণে ভাইবোনের বাদাম খাওয়া প্রায় শেষ।

কিন্তু বাদামওয়ালা তাতে মন খারাপ করেননি। বরং আরো বাদাম খাইয়েছিলেন। যাওয়ার সময় সেই বাদামওয়ালার ছবি তুলে নিয়ে যায় ছোট দুই সহোদর। বলেছিলেন, একদিন না একদিন বাদামের দাম মিটিয়ে দেবেন।

nut seller in seabeachসমুদ্রসৈকতে বাদামবিক্রেতা, ফাইল ছবি

এক সময় আমেরিকাবাসী হয়ে ওঠে দুই ভাই-বোন। তবে দেশে ফিরলেই খোঁজ করতেন সেই বাদামওয়ালা সত্তাইয়াকে। কিন্তু খুঁজে পাননি। তবে হাল না ছাড়েননি। সম্প্রতি দেশে ফিরে আবারো ওই বাদামওয়ালাকে খুঁজতে বের হন। স্থানীয় বিধায়কের শরণাপন্ন হলে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তিনি।

প্রণব-সুচিথার বাবার ক্যামেরায় তোলা সত্তাইয়ার সেই ছবিটি ফেসবুকে প্রকাশ করনে বিধায়ক। এক পর্যায়ে খোঁজ মিলে সেই বাদামওয়ালার। সত্তাইয়ার গ্রামের বেশ কয়েকজনের চোখে পড়েছিল বিধায়কের সেই ফেসবুক পোস্ট। তা দেখেই বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তারা।

প্রণব বোন সুচিথাকে নিয়ে একদিন সত্তাইয়ার বাড়ি পৌঁছে যান। গিয়ে তারা জানতে পারেন, কিছু দিন আগেই মারা গিয়েছেন সত্তাইয়া। তবে শেষ পর্যন্ত কথা রেখেছেন দুই ভাই-বোন। সত্তাইয়ার মৃত্যুর খবর শুনে তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বাদামের দাম তো মিটিয়েছেনই, পাশাপাশি ২৫ হাজার রুপি অর্থসাহায্য করে এসেছেন সত্তাইয়ার পরিবারকে।

অন্ধ্রপ্রদেশের এই ঘটনা সম্প্রতি ভাইরাল হয়ে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই তরুণ-তরুণীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে গোটা নেটবিশ্ব।