advertisement
আপনি দেখছেন

আমাদের প্রিয় নবী সা. যখন ছোট ছিলেন তখন বিশুদ্ধ ভাষা শেখার জন্য পল্লীগ্রামে লালিত-পালিত হন। এ শুধু নবী সা.- এর ক্ষেত্রেই নয়। প্রায় সব আরব শিশুই ছোট বেলায় মাতৃভাষা শেখার জন্য মায়ের কোল ছেড়েছেন। মায়ের সেবার মতোই মাতৃভাষার সেবায় রাসুল সা. ছিলেন সর্বদা সজাগ। একবার এক সাহাবি ঘরে ঢোকার জন্য অনুমতি চাইল ‘আ-উলুজু’ বলে। রাসুল সা. খাদেমকে বললেন, যাও তাকে প্রবেশের নিয়ম শিখিয়ে আস। সে যেন বলে ‘আ-আদখুল’। আবু দাউদ।

vasa

উলুজ ও দুখুল দুটো শব্দের অর্থ একই। প্রবেশ করা। কিন্তু উলুজের চেয়ে দুখুল সাহিত্য মানে উন্নত শব্দ। দৈনিন্দন কথোপকথনেও যেন মাতৃভাষার সর্ব্বোচ্চ ব্যবহার হয় এ হাদিস থেকে সে শিক্ষাই পাই আমরা।

ইমাম বুখারি সংকলিত আল আদাবুল মুফরাদে বর্ণিত হাদিস থেকে জানতে পারি, সাহাবি ও তাবেয়ীরা তাদের সন্তানদের মাতৃভাষার শুদ্ধ চর্চার জন্য প্রহার পর্যন্ত করতেন। এমনকি সাধারণ কথা বার্তায়ও ভাষার অশুদ্ধতা তাদের কাছে ছিল কঠোর নিন্দনীয়। একবার এক ব্যবসায়ী একজনকে ডাকলেন- ‘ইয়া আবু সাঈদ’ বলে। যা হবে ‘ইয়া আবা সাঈদ’। হাসান বসরী (রহ.) শুনে বললেন, টাকা-পয়সার চিন্তা তোমাকে শুদ্ধ বলা থেকে ফিরিয়ে রাখল।

১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা রক্ষার লড়াইয়ে আমাদের দেশের সন্তানরা জীবন বিলিয়ে দিয়েছে। যে ইতিহাস পৃথিবীতে বিরল। এ জন্য ২১ শে ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ভাষা দিবস পালনের পাশাপাশি মাতৃভাষা চর্চায়ও বিশ্বের দরবারে বাঙালিদের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। আমাদের দেশের মাতৃভাষা চর্চা এখনো কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছেনি।

মায়ের ভাষা চর্চার উত্তম ক্ষেত্র হলো মাতৃভাষায় দেশীয় সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করা। বিদেশি ভাষায় সাহিত্য রচনা সাধারণ মানুষের তেমন কাজে আসে না। বলেছেন ডা. লুৎফর রহমান। তাই বাংলা ভাষায় আমাদের সাহিত্যকে আরো সমৃদ্ধ করতে হবে।

এ সম্পর্কে ১৯০২ সালে প্রকাশিত ‘মাসিক ইসলাম প্রচার’-এ সুসাহিত্যিক সৈয়দ ইসমাইল হোসাইন সিরাজী লেখেন, ‘নিশ্চয়! জানিয়া রাখিবেন আমরা যতই আরবি, ফার্সি, উর্দু এবং ইংরেজিতে পন্ডিত হই না কেন, যতই আমরা অন্যান্য ভাষার আলোচনা করি না কেন, যতদিন আমরা বাংলার আলোচনায় বদ্ধপরিকর না হইব, যতদিন জাতীয় সাহিত্য, ইতিহাস, এবং দর্শন, বিজ্ঞান ভূরি পরিমাণ লিখিত এবং রচিত না হইবে, যতদিন আমাদের মধ্যে শত শত জাতীয় কবি এবং বক্তা আবির্ভূত না হইবে- ততদিন আমাদের জাতীয় উন্নতির আশা নিতান্তই মূর্খতা। মাতৃভাষার আলোচনা ব্যতীত অন্যান্য ভাষায় সুপন্ডিত হইয়া দুই চারিটি লোকের ব্যক্তিগত উন্নতি হইলেও হইতে পারে। কিন্তু জাতীয় উন্নতি বা অভ্যুত্থান হইতে পারে না।’

sheikh mujib 2020