advertisement
আপনি দেখছেন

রাসুল (সা.) এর পবিত্র মুখ নিঃসৃত বাণীকে হাদিস বলে। শুরুতে হাদিসগুলো মুখে মুখে ছিলো। পরবর্তীতে সংরক্ষণের জন্য হাদিস লেখার প্রয়োজন হয়। তখন বহু মনীষী পুরো জীবনটাইকেই হাদিসের জন্য উৎসর্গ করেন। ইমাম বুখারি-মুসলিমসহ জানা অজানা অসংখ্য মানুষ হাদিসের খেদমত করে মুসলিম উম্মাহর কাছে চির ঋণী হয়ে আছেন। এদের মধ্যে ইমাম তিরমিজির নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

masjid

হাদিস শাস্ত্রের প্রথম সারির ইমামদের মধ্যে তিনি অন্যতম। হাদিস ও তাফসিরের ওপর বহু গ্রন্থ প্রণয়নের পরও শামায়েলে তিরমিজি এবং সুনানে তিরমিজির জন্য দুনিয়াব্যাপী নবী প্রেমিকদের মুখে প্রতিনিয়ত তার নাম স্মরণ হচ্ছে শ্রদ্ধার সঙ্গে।

ইমাম তিরমিজির মূল নাম হলো মুহম্মদ। তার উপাধি আবু ঈসা। আবার তার বাবার নামও ঈসা। দাদার নাম সাওরাহ। ২০৯ অন্য বর্ণনা মতে ২১০ হিজরি সনে খোরাসান বর্তমান তাজিকিস্তানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ওই সময় তাজিকিস্তান ছিলো জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ এক নগরী। বিশেষ করে শহরটি ইসলামী জ্ঞানের বেলাভূমি হিসেবে খ্যাতি লাভ করে।

এই অঞ্চলে এত বেশি আলেম-জ্ঞানীর বসবাস ছিল যে, ঐতিহাসিকরা একে মাদিনাতুর রিজাল বা হাদিস গবেষকরদের শহর বলে উল্লেখ করেছেন।

জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ খোরাসানে জন্মগ্রহণ করার কারণে এখানেই তিনি বাল্য শিক্ষা সমাপ্ত করেন। ইলমে দ্বীনের উচ্চস্তরের শিক্ষার পাঠও তিনি এখান থেকেই নেন। পরবর্তীতে বাগদাদ, মিসর এবং সিরিয়ার মাদরাসাগুলো থেকেও তিনি ডিগ্রি নিয়েছেন। তার অসংখ্য শিক্ষকদের মধ্যে ইমাম বুখারি, মুসলিম এবং ইমাম আবু দাউদের নাম উল্লেখযোগ্য।

তিনি এতই প্রখর মেধাবী ছিলেন যে, তার শিক্ষক ইমাম বুখারি বলেন, হে আবু ঈসা! তুমি আমার থেকে যতটুকু শিখেছো, আমি তোমার থেকে তার চেয়ে বেশি শিখেছি। মজার ব্যাপার হলো, ইমাম তিরমিজির সূত্রে ইমাম বুখারি অনেক হাদিস বিভিন্ন সময় বর্ণনা করেছেন। এতে থেকেই বোঝা যায়, ইমাম তিরমিজি কত বেশি বিশ্বস্ত এবং মেধাশক্তির অধিকারী ছিলেন।

ইমাম তিরমিজির মেধা শক্তির ব্যাপারে একটি মজার ঘটনা প্রসিদ্ধ আছে। একবার তিনি তার এক শিক্ষককে বললেন, আমাকে কিছু হাদিস শোনান। তখনকার নিয়ম ছিলো- শিক্ষক নতুন কোনো হাদিস শোনালে ছাত্ররা তা লিখে ফেলতো। কিন্তু ইমাম তিরমিজি তা লিখেননি। এতে করে শিক্ষক একটু রাগ করে বললেন- তুমি লিখছো না কেনো।

ইমাম তিরমিজি বললেন, আপনি যা বলেছেন, একবার শোনাতেই তা আমার মুখস্ত হয়ে গেছে। তখন তিনি সবাইকে অবাক করে সবগুলো হাদিস শায়েখকে মুখস্ত শুনিয়ে দিলেন।

হাদিস শাস্ত্রের এ মহান ইমাম ২৭৯ হিজরির রজব মাসের ১৩ তারিখে মহান মাবুদের ডাকে সাড়া দেন। তার ইন্তেকালে পুরো খোরাসান শহরে শোকের ছায়া নেমে আসে। জীবনীকাররা লেখেন, ইমাম তিরমিজির জানাজায় এত মানুষ হয়েছে যে, অনেকের ধারণা জন্মে- অসংখ্য ফেরেশতা মানুষের বেশে তার জানাজায় অংশ গ্রহণ করে থাকতে পারে।