advertisement
আপনি দেখছেন

যে মানুষ বনের পশুকে খাঁচায় বন্দি করে রাখে, সে মানুষই এখন করোনার ভয়ে খাঁচাবন্দি হয়ে আছে। এই পরিণতি কি আমাদের নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল ঠুকার কারণে নয়? এতো আমাদেরই পাপেরই ফল। আমাদের দম্ভ, ঔদ্ধত্য এতোটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, প্রযুক্তির ডানায় ভর করে তারা এক আল্লাহর ওপর ভরসা করাই ভুলে গেছি।

prayer believer

আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন পৃথিবী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য, শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য। সে জন্য প্রকৃতিকে করে দিয়েছিলেন মানুষের অধীন। 

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آَدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا

‘নিশ্চয়ই আমি মানুষকে মর্যাদা দান করেছি, আমি তাদের সড়কে ও নদীতে চলাচলের বাহন দিয়েছি, তাদের উত্তম জীবনোপকরণ প্রদান করেছি এবং তাদের অনেক সৃষ্ট বস্তুর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।’ সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত ৭০।

কিন্তু আমরা মানুষ যেন আর মানুষ নেই। আমরা আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্যকে ভুলে গিয়ে হয়ে উঠেছি এক একটা দানব। ক্ষমতার লোভে দেশে দেশে যুদ্ধ বাধিয়ে কত অসহায় নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, তার কোনো হিসেব নেই। অথচ আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

مَنْ قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الْأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا

‘যে অকারণে কোনো প্রাণীকে হত্যা করল, সে যেন পুরো মানবজাতিকেই হত্যা করল।’ সূরা মায়িদাহ, আয়াত ৩২।

যেখানে শুধুমাত্র একটি প্রাণী হত্যা করলে পুরো মানবজাতি হত্যার সমান বলা হয়েছে, সেখানে এত এত মানুষের প্রাণহানির জন্য আল্লাহ কতটা রাগ হতে পারেন, তা আজকের পৃথিবীর দিকে তাকালেই বোঝা যায়। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে তাদের আত্মরক্ষা, আত্মোন্নতির জন্য সৃজনশীলতা ও আবিষ্কারের ক্ষমতা দিয়েছেন। সঙ্গে পৃথিবীবাসীর প্রতি মানুষের দায়িত্ব-কর্তব্য, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির কথাও বলেছেন। কিন্তু মানুষ এসব ভুলে গিয়ে শুধুমাত্র আবিষ্কারের নেশায় মেতে উঠেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে আবিষ্কার করেছে একের পর এক পারমানবিক অস্ত্র। রাসায়নিক বিষ। এজন্যই আল্লাহ বলেছেন,

فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ

‘ক্ষমতা পেলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে কলহ সৃষ্টি করবে।’ সূরা মুহাম্মদ, আয়াত ২২।

surah al fatiha

মানুষ শুধু কলহই সৃষ্টি করেনি। সীমা লঙ্ঘন করে পৃথিবীকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। এ জনই এই করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। যার প্রকোপে পুরো পৃথিবী এখন থরথর করে কাঁপছে। নেতিয়ে পড়েছে ক্ষমতাধর নেতারাও। কোথায় আজ তাদের সেই বিজ্ঞান, কোথায় উন্নত প্রযুক্তি? কোথায় তাদের সাবমেরিন, যুদ্ধ বিমান? আজ সবকিছুই মুখ থুবড়ে পড়েছে।

মানুষ কি শুধুমাত্র মানুষ হত্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল? পরিবেশও যে রেহাই পায়নি তাদের হাত থেকে। নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন, নদী ভরাট, পাহাড় কাটা, পানি দূষণ আর প্রযুক্তির বিষ বাষ্প বাতাসে ছড়িয়ে করেছে জলবায়ুর নেতিবাচক পরিবর্তন। ফলে পরিবেশ হয়ে উঠেছে বিপর্যস্ত। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে,

الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَأَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَكُمْ فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا

‘তিনি পৃথিবীকে তোমাদের জন্য বিছানা ও আকাশকে ছাদ করেছেন। আর আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করে তা দ্বারা তোমাদের জীবিকার ব্যবস্থা করেছেন। সুতরাং জেনে শুনে কাউকেও আল্লাহর সমান মনে করো না।’ সূরা বাকারা, আয়াত ২২

মানুষ স্রষ্টার দেয়া উপহার, এই নয়নাভিরাম পরিবেশ নিজের হাতেই নষ্ট করে চলেছে। এ জন্যই আল্লাহ তায়ালা আমাদের এই কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন করেছেন। মানুষ আজ ঘরবন্দি বলে কল-কারখানার কালো ধোয়ায় নীল আকাশ কালো হয় না। বাতাসে ভাসে না রাসায়নিক বিষ। নোংরা হয় না নদী-সাগরের পানি। 

এখন আমাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে- এ সুন্দর পৃথিবীতে আমরা থাকতে চাই কি না। বাঁচতে চাইলে অবশ্যই আমাদের লোভী আত্মাকে শুদ্ধ করতে হবে। পৃথিবীর সব সৃষ্টির প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে। সব পাপ ছেড়ে ফিরে আসতে হবে সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে। তবেই আমরা এ বিপদ থেকে বাঁচতে পারবো।