advertisement
আপনি দেখছেন

শরিয়তের আলোকে একজন মানুষ তিনভাবে পবিত্রতা অর্জন করতে পারে। অজু, গোসল এবং তায়াম্মুম। সালাত আদায়, কোরআন স্পর্শ এবং বায়তুল্লাহ তাওয়াফের জন্য অজু করা আবশ্যক। অন্যসব ইবাদতের জন্য পবিত্র থাকা ভালো। কখনো কখনো শুধু অজু করাই যথেষ্ট নয় গোসল করাও জরুরি হয়ে পড়ে। যখন পানি পাওয়া যায় না তখন অজু বা গোসলের বিকল্প হলো তায়াম্মুম। 

azu

প্রশ্ন হলো, গোসলের পর কি অজু করা জরুরি? অর্থাৎ গোসল করে অজু না করেই কি সালাত আদায় কিংবা কোরআন স্পর্শ করা যাবে? আসুন জেনে নিই, এ বিষয়ে শরিয়তের নির্দেশনা কী-

নবীজি (সা.) গোসলের পর অজু করতেন না

হাদিস শরিফ থেকে জানা যায়, রাসূল (সা.) গোসলের পর অজু করতেন না। হজরত আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) গোসলের পর নতুন করে অজু করতেন না। (সুনানে নাসায়ি)। তিরমিজি ও নাসায়ি শরিফের আরেকটি হাদিস থেকে জানা যায়, রাসুল (সা.) গোসলের আগে অজু করে নিতেন। এটাও হজরত আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবীজি (সা.) গোসলের আগে অজু করে নিতেন। গোসলের পর নতুন করে অজু করতে তাকে আমি দেখিনি।

কেনো গোসলের পর অজু জরুরি নয়

গোসলের ফরজ ৩টি। ১. কুলি করা। ২. নাকে পানি দেওয়া এবং ৩. পুরো শরীর ভালোভাবে ধৌত করা। আর অজুর ফরজ হলো ৪টি। ১. পুরো মুখ ধোয়া। ২. দুই হাতের কুনুইসহ ধোয়া। ৩. মাথা মাসেহ করা। ৪. দুই পায়ের টাখনুসহ ধোয়া। দেখা যাচ্ছে, কেউ যদি গোসলের ফরজগুলো আদায় করে নেয় তাহলে অজুর ফরজগুলোও আদায় হয়ে যায়। এ জন্য গোসলের পর আর নতুন করে অজু করার প্রয়োজন নেই।

মাথা মাসেহ করার ফরজ তো আদায় হলো না

এটা ঠিক গোসলের সময় মাথা মাসেহ করার ফরজ আদায় হয় না। এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের প্রখ্যাত আলেম মুফতি ইউসুফ লুধিয়ানাভি (রহ.) বলেন, মাসেহ বলতে বোঝায়, ভেজা হাত মাথায় স্পর্শ করানো। এই অর্থে মাথা ধোয়ার কারণে মাসেহর চেয়েও অতিরক্ত হয়ে যায়, আদায় হয়ে যায় মাসেহর ফরজও।

odhu namaz

গোসলের আগে অজু করা ভালো

ফকিহরা বলেন, গোসলের আগে অজু করা সুন্নাত। না করলে গোনাহ নেই, শুধু গোসলই যথেষ্ট। হানাফি মাজহাবের বিখ্যাত ফতোয়ার কিতাব ফতোয়ায়ে আলমগিরিতে বলা হয়েছে, ‘গোসলই অজুর জন্য যথেষ্ট। তবে গোসলের আগে অজু করা সুন্নাত।’

গোসলের পর অজু না করাটাই ভালো

গোসলের পর অজু করাকে কোনো কোনো ফকিহ ‘পানির অপচয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। কেউ কেউ সুন্নাতের খেলাফও বলেছেন। তবে কেউ চাইলে নামাজের আগে নতুন করে অজু বানিয়ে নিতে পারে। এক্ষেত্রে সে মুস্তাহাব আমলের সাওয়াব পাবে। (ফতোয়ায়ে আলমগিরি, ১ম খন্ড, ১৪ পৃষ্ঠা)।

sheikh mujib 2020