advertisement
আপনি দেখছেন

কোরবানির জন্য নিঁখুত পশু হওয়া শর্ত। খুঁত কিংবা দোষ আছে এমন পশু কোরবানি করা শরিয়ত বিশেষজ্ঞরা নিষেধ করেছেন। একটি হাদিসের সারমর্ম হলো, তুমি আল্লাহর জন্য যে পশুটি উৎসর্গ করছ, তা যেন নিঁখুত, সুস্থ ও বলিষ্ঠ হয়। এ কারণে ফকিহরা ত্রুটিপূর্ণ পশু কোরবানি না করার বিষয়ে জোর তাগিদ দিয়েছেন। তাহলে আসুন জেনে নিই যেসব পশু কোরবানি করা যাবে না।

qurbani 2

১. নির্দিষ্ট বয়স হয়নি যে পশুর

গরু, উট, ভেড়া, দুম্বা, ছাগল এসব পশু কোরবানি করার জন্য নির্দিষ্ট বয়স হওয়া শর্ত। যে সব পশু শরিয়ত নির্ধারিত বয়সে পৌঁছেনি সেসব পশু দিয়ে কোরবানি করা শুদ্ধ হবে না। তবে যদি পশুটি দেখতে বেশ বলিষ্ট হয় এবং দেখতে নির্ধারিত বয়সের মতই মনে হয় সে ক্ষেত্রে এ ধরনের পশু কোরবানি করা যেতে পারে।

২. শিং ভাঙা

যে পশুর শিং গোড়া থেকে ভেঙে গেছে, এর ফলে মস্তিষ্কে আঘাত লেগেছে এ পশু দিয়ে কোরবানি করা জায়েজ হবে না। তবে আংশিক শিং ভাঙা কিংবা জন্ম থেকে শিং উঠেনি এমন পশু দিয়ে কোরবানি করাতে অসুবিধা নেই।

৩. অন্ধ-খোড়া পশু

যেসব পশুর চোখ নষ্ট হয়ে গেছে কিংবা পা ভেঙে গেছে অথবা আঘাত পেয়ে লেংড়া হয়ে গেছে এমন পশু কোরবানি করা যাবে না।

৪. দুর্বল পশু

দুর্বল পশু কোরবানি না করার পরামর্শ দিয়েছেন আলেমগণ। যে পশু এত বেশি দুর্বল যে, স্বাভাবিক গতিতে হেঁটে কোরাবানির জায়গা পর্যন্ত যেতে পারবে না, এমন পশু কোরবানি করা জায়েজ নয়।

eid ul azha

৫. এক তৃতীয়াংশ অঙ্গ নেই এমন পশু

কান, নাক, লেজ অথবা শরীরে যেকোনো অঙ্গ এক তৃতীয়াংশের বেশি কাটা পড়েছে এমন পশু কোরবানি করা যায়েজ নয়।

৬. জন্ম থেকে কান নেই যে পশুর

যে পশুর জন্ম থেকে কান নেই এমন পশু কোরবানি যাবে না।

৭. দাঁত নেই বা পড়ে গেছে যে পশুর

যে পশুর সব দাঁত পড়ে গেছে কিংবা বেশির ভাগ দাঁত পড়ে গেছে অথবা ভেঙে গেছে এমন পশু কোরবানি করা যাবে না।

যথেষ্ট যাচাই বাছাই করে কেনার পর বাড়ি এসে যদি পশুর মাঝে এমন কোনো ত্রুটি দেখা যায়, যে কারণে কোরবানি করা জায়েজ নয়, তাহলে কী করণীয়?

এ প্রশ্নের জবাবে ফকিহরা বলেছেন, সামর্থ্য থাকলে আরেকটি পশু কিনে কোরবানি করা।

আর সামর্থ্য না থাকলে এবারের মত এ পশুটিই কোরবানি করা। আশা করা যায়, আল্লাহ তায়ালা ভুলভ্রান্তি ক্ষমা করে কবুল করে নেবেন।

বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, হেদায়া এবং ফতোয়ায়ে শামীর কোরবানি অধ্যায়।

sheikh mujib 2020