advertisement
আপনি দেখছেন

সকল ধর্মের মূল উদ্দেশ্য মহান স্রষ্টার সঙ্গে মানুষকে জুড়ে দেওয়া। স্রষ্টার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার অন্যতম শর্ত হলো হৃদয়ের পবিত্রতা অর্জন করা। সাইয়েদেনা ইবরাহিম (আ.) এক দোয়ায় বলেছিলেন, ‘হে প্রভু! আমার হৃদয়কে পবিত্র করে দিন। কেননা, কেয়ামতের দিন আপনি সব কিছু ফেলে দেবেন- শুধু পবিত্র আত্মা ‘কালবে সালিম’ ছাড়া।’

tayammum

আত্মা পবিত্র করার জন্য বাইরের অবয়ব পবিত্র হওয়াও ইসলাম জরুরি মনে করে। যে কারণে ইসলাম পোষাক-পরিচ্ছদের পবিত্রতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু খৃষ্টধর্মের অনেক সুফি আছেন, যারা শুধু ভেতরের পবিত্রতাকেই যথেষ্ট মনে করেন।

ইসলাম ধর্মে পবিত্রতার জন্য পানি ব্যবহার করার নিয়ম রয়েছে। অন্যান্য ধর্মেও পানির মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের উদাহরণ পাওয়া যায়। পানিকে পবিত্রতার মাধ্যম বানানোর কারণ হিসেবে গবেষকরা বলেন, পানি দিয়ে ধোয়ার ফলে দেহের জড়তা কেটে যায়। আত্মায়ও এক ধরনের শুভ্রতা আসে। তাছাড়া পানি সহজলভ্য। সবজায়গাতেই পাওয়া যায়।

তবে অন্যসব ধর্মের চেয়ে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব হলো পানির পাশাপাশি মাটিকেও ইসলাম পবিত্রতার মাধ্যম বানিয়েছে। পানি না পেলে মাটি দিয়ে পবিত্রতা অর্জনের নির্দেশ পবিত্র কোরআনে রয়েছে।

ধর্মবিশ্লেষকরা বলেন, এমন অনেক জায়গা আছে, যেখানে পানি পাওয়া যায় না। কিন্তু পৃথিবীর এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে মাটি বা ধুলোবালি নেই। তাই পবিত্রতা অর্জনের জন্য মাটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে ইসলাম শ্রেষ্ঠত্বের আসনটি আরো শক্ত করে নিয়েছে।

মাটি দিয়ে পবিত্রতা অর্জনের বিষয়টিকে শরিয়তের পরিভাষায় তায়াম্মুম বলা হয়। তায়াম্মুমের নির্দেশ পবিত্র কোরআনেও আছে এবং হাদিস শরিফেও আছে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘গোসলের জন্য পানি না পেলে মাটি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করে নিও।’

আর হাদিস শরিফে উল্লেখ আছে, ‘এই উম্মতের অন্যতম একটি শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট হলো, তারা মাটি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করতে পারে।’

মূলত পানি পাওয়া না গেলে বা সহজলভ্য না হলে তায়াম্মুম করার অনুমতি ইসলামী শরিয়ত দিয়েছে। এছাড়াও ফকিহরা অনেকগুলো কারণ নির্দিষ্ট করেছেন। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কারণ হলো-

১. আশেপাশে পানি নেই।

২. পানি আছে কিন্তু সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। যেমন অর্থ বা খাদ্যের বিনিময়ে পানি নিতে হচ্ছে, এমন অবস্থায় তায়াম্মুম করা জায়েজ।

৩. পানি আছে কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় কম অথবা গোসল কিংবা অজু করলে পানির সংকট দেখা দেবে।

tayammum2

৪. পানি ব্যবহার করলে অসুখ বেড়ে যাবে।

৫. পানি আনতে গেলে কোনো ধরনের বাঁধা পাওয়ার ভয় আছে।

৬. তীব্র শীত পড়লে।

এ ছাড়াও আরো অনেক কারণে তায়াম্মুমের অনুমতি রয়েছে।

কীভাবে তায়াম্মুম করবেন

তায়াম্মুমের জন্য মাটি পবিত্র হওয়া শর্ত। পবিত্র বলতে বাইরে থেকে নোংরা বা ময়লা দেখাচ্ছে না, এমনটাই বুঝিয়েছেন অধিকাংশ আলেম। মাটি পাওয়া না গেলে ধুলোবালির আস্তর পড়েছে এমন কিছুতে হাত বুলিয়ে নিলেও চলবে।

প্রথমে মনে মনে পবিত্রতার নিয়ত করে নিতে হবে। এরপর দুই হাতের তালু পবিত্র মাটিতে বুলিয়ে নেবেন। তারপর দুই হাত দিয়ে মুখ মুছে নেবেন।

তারপর আগের মতই আবার দুই হাতের তালু মাটিতে বুলিয়ে নেবেন। এবার বাম হাতের তালু দিয়ে ডান হাতের আঙ্গুলের গোড়া থেকে কনুই পর্যন্ত মাসেহের মত করে নেবেন এবং ডান হাতের তালু দিয়ে বাম হাতের আঙ্গুলের গোড়া থেকে কনুই পর্যন্ত একইভাবে মাসেহ করে নেবেন। এভাবেই তায়াম্মুম করতে হয়।

sheikh mujib 2020