advertisement
আপনি দেখছেন

আরবি কসম শব্দের বাংলা অর্থ শপথ করা। আর এই শপথ মুখে উচ্চারণের মাধ্যমেই করতে হয়। মনে মনে করা যায় না। কেউ যদি মুখে উচ্চারণ না করে মনে মনে কোন বিষয়ে শপথ বা কসম করে ইসলামী শরীয়ত মতে তা শপথ বা কসম হিসেবে গণ্য হবে না। কথায় কথায় কসম অথবা শপথ করা কোরআন এবং হাদিসের আলোকে নিন্দনীয় অভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত।

dowa 1

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে নবী, যে ব্যক্তি কথায় কথায় শপথ করে, আপনি তার অনুসরণ করবেন না।’ হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কথায় কথায় শপথ করে, তোমরা তাকে বিশ্বাস করবে না।’

ইসলামী আইন মতে কসম পাঁচ প্রকার।

১. ওয়াজিব

নিরপরাধ ব্যক্তির প্রাণ বাঁচানোর জন্য কসম করা ওয়াজিব। অর্থাৎ কারো কসমের কারণে যদি কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির প্রাণ বেঁচে যেতে পারে বলে মনে হয়, সে ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির জীবন রক্ষার জন্য কসম করা ওয়াজিব।

২. মুস্তাহাব

দুই মুসলমান ভাইয়ের মাঝে বিবাদ হলে, সে বিবাদ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য কসম করা মুস্তাহাব এবং ফজিলত পূর্ণ সওয়াবের কাজ।

৩. মোবাহ

কোন বৈধ কাজ করা কিংবা না করার বিষয়ে শপথ করা মোবাহ। নিজের কোনো বৈধ অধিকার আদায়ের জন্য শপথ করাও মোবাহ। অর্থাৎ শরীয়তের দৃষ্টিতে এটি নিন্দনীয় কিংবা প্রশংসনীয় কোনোটিই নয়।

৪. মাকরূহ

হারাম নয় কিন্তু শরীয়তের চোখে অপছন্দনীয় কোনো কাজ করার ব্যাপারে শপথ করা কিংবা পছন্দনীয় কোনো ব্যাপার না করার বিষয়ে শপথ করা মাকরূহ।

৫. হারাম

শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম এমন কোনো কাজ করা কিংবা শরীয়তের দৃষ্টিতে আবশ্যক এমন কোনো কাজ না করার ব্যাপারে শপথ করা সুস্পষ্ট হারাম। কেউ যদি এমন শপথ করে ফেলে তাহলে তিা পালন করা আবশ্যক নয়। বরং ওই হারাম কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে কিংবা যে আবশ্যক কাজ না করার শপথ করেছিলেন তা পালন করে যাবে।

first tenth of ramadan

কসম ভঙের কাফফারা

কোনো হারাম কসম ভঙ্গ করলে তার জন্য কাফফারা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যেমন- কেউ শপথ করল, আমি নামাজ পড়ব না। এ ধরনের কসম করা হারাম। যা করার করার সুযোগ নেই। বরং এমন কসম করার জন্য আল্লাহতালার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তবে কোন শুদ্ধ কসম ভঙ্গ করলে কসম ভঙ্গের জন্য কাফফারা আদায় করা আবশ্যক। যা দুইভাবে আদায় করা যায়।

১. দশ জন দরিদ্র ব্যক্তিকে দুই বেলা পেট ভরে খাবার খাওয়ানো অথবা একজন দরিদ্র ব্যক্তিকে ২০ বেলা পেট ভরে খাবার খাওয়ানো।

২. দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো- দশ জন দরিদ্র ব্যক্তিকে স্বাভাবিক মানের ১০ সেট পোশাক দেওয়া।

কোনো ব্যক্তি যদি আর্থিকভাবে সচ্ছল না হয়, তাহলে তিনি টানা তিনটি রোজা পালনের মাধ্যমেও কসমের কাফফারা আদায় করতে পারবেন।

sheikh mujib 2020