advertisement
আপনি দেখছেন

দৈনিক প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের রিমান্ড না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। পরে কারাগারের উদ্দেশ্যে তাকে আদালত থেকে বের করে আনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ।

rojina islam anisul haoque

এ সময় ঢাকার সিএমএম আদালত ভবনের সিঁড়িতে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন গণমাধ্যমটির সহযোগী সম্পাদক ও সাহিত্যিক আনিসুল হক। সেই কান্নার ৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিকমাধ্যমে।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন আনিসুল হক। এর আগে তিনি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় রোজিনার ওপর হামলা ও নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানাই। সাংবাদিকদের চোর বলা হচ্ছে, এটা হতে পারে না। এ ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়ার পুলিশি আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আগামী বৃহস্পতিবার তার জামিন আবেদন নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে।

rojina islam

আদালত থেকে কারাগারে নেয়ার সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা রোজিনা ইসলামের কাছে জানতে চান, তার কিছু বলার আছে কিনা? জবাবে রোজিনা বলেন, আমার সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে, আমার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ে রিপোর্ট করায় আমার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে।

রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা, লাঞ্ছনা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আজ মঙ্গলবার বিবৃতি দিয়েছেন ১১ জন বিশিষ্ট নাগরিক। মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। বিবৃতিতে বলা হয়, রোজিনা আক্রান্তের কারণ খতিয়ে দেখা, হামলাকারীদের চিহ্নিত করা এবং তাদের কর্মকাণ্ড তদন্ত করা হোক।

রোজিনা ইসলামকে হেনস্তার পর গ্রেপ্তার করার প্রতিবাদে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন আজ বয়কট করেছে সাংবাদিকরা। ​বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

পরে দুপুরে ‘হেলথ মিডিয়া সেল বিডি’ অনলাইন পেজ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের করা প্রেস ব্রিফিংও বয়কট করে বিএসআরএফ। সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম এ সংগঠনটির একজন সদস্য।

আজ বেলা ১১টার পর রোজিনাকে সিএমএম আদালতে তোলা হয়। সেখানে শুনানির আগ পর্যন্ত তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

প্রসঙ্গত, সোমবার পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম। সেখানে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তাকে ৫ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রেখে হেনস্তা করেন। এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এরপর খবর পেয়ে রাত ৯টার দিকে পুলিশ তাকে সচিবালয় থেকে শাহবাগ থানায় নিয়ে আসে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সাংবাদিক রোজিনার বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা ও তথ্য চুরির অভিযোগে মামলা করা হয়। ৩৭৯, ৪১১ এবং অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্ট এর ৩/৫- এই তিনটি ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।