advertisement
আপনি পড়ছেন

গাজা উপত্যকায় আগ্রাসন বন্ধে ইসরায়েলকে সময় বেঁধে দিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ বন্ধ না হলে হামাস সদস্যরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আক্রমণে অংশ নেবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

gaza attack tlsd শুক্রবার রাত থেকে গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ করছে ইসরায়েলি বাহিনী

মিশরের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, হামাস নেতারা তাদের এ হুঁশিয়ারির কথা ইসরায়েলকে জানিয়ে দিতে মিশরীয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছেন। হামাসের শীর্ষ নেতৃত্ব সংগঠনের রাজনৈতিক ও সামরিক শাখার কর্মকর্তাদের এরইমধ্যে ইসরায়েলে হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, হামাস ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নিলে ইহুদীবাদী রাষ্ট্রটিকে সত্যিই কিছুটা বেকায়দায় পড়তে হবে। গাজায় প্রশাসন পরিচালনাকারী সংগঠনটির রয়েছে বিপুল সংখ্যক অভিজ্ঞ যোদ্ধা এবং রকেট ও গোলাবারুদের বড় ধরনের মজুত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইসলামিক জিহাদ ও অন্যান্য সংগঠনের পাশাপাশি হামাস সদস্যরা ইসরায়েলে রকেট হামলা শুরু করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেসব রকেট ঠেকানো সম্ভব হবে না। অতীতে বিভিন্ন সময়ে হামাসের ছোঁড়া রকেট আয়রন ডোমকে ফাঁকি দিয়ে আশকেলন, তেল আবিব ও অন্যান্য শহরে আঘাত হেনেছে।

জানা গেছে, হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের যোগাযোগে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মিশর মধ্যস্থতা করে থাকে। দুইদিন আগে গাজায় হামলা শুরুর আগে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হামাসকে সংঘাত থেকে দূরে থাকতে বলা হয়। হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়া তখন মধ্যস্থতাকারীদের বলেছেন, ফিলিস্তিনি রক্ত ঝরলে হামাস বা অন্য কোনো সংগঠনের মধ্যে মতাদর্শিক পার্থক্য টিকে না।

মিশরীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, গাজায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় মিশরের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে সংযত হবার আহ্বান জানানো হয়েছে। এরইমধ্যে হামাসের পক্ষ থেকেও ইসরায়েলকে চরমবার্তা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, রোববার দুপুর পর্যন্ত ইসলামিক জিহাদের সামরিক শাখা আল-কুদস ব্রিগেডের পাশাপাাশি মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী পিএফএলপি, মাওবাদী শহীদ আবু মুসা ব্রিগেড, আল-আকসা মার্টায়ারস ব্রিগেড, প্যালেস্টাইনিয়ান মুজাহিদীন মুভমেন্টের সামরিক শাখা মুজাহিদীন ব্রিগেড ইসরায়েলে রকেট হামলায় অংশ নিয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রোববার সকাল পর্যন্ত ৩০ ঘন্টায় গাজা উপত্যকা থেকে ৫৮০টি রকেট ছোঁড়া হয়েছে। রকেট হামলা মোকাবেলায় রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে জেরুজালেম থেকে শুরু করে মিশর-সীমান্তবর্তী এলাকা পর্যন্ত।

গাজার স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত আট শিশুসহ ৩২ জন নিহত ও কমপক্ষে ২০৩ জন আহত হয়েছে। সম্পূর্ণ অথবা আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে ৫৩০টি ভবন।

ইসরায়েলি হামলা শুরুর সময় তেহরানে অবস্থানরত ইসলামিক জিহাদ মহাসচিব জিয়াদ আল-নাখালা ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠনগুলোর প্রতি সংহতি জানিয়েছে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।

লেবাননের হিজবুল্লাহ মুভমেন্টের মহাসচিব সাইয়েদ হাসান নাসরাল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমরা ইসলামিক জিহাদ, হামাস ও অন্যান্য সংগঠনের ভাইদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি এবং বিশ্বাস করি যে, প্রতিরোধের হাতটাই শক্তিশালী ও বিজয়ী হবে।

ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর (হুথি মুভমেন্ট) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, আমরা ফিলিস্তিনি ভাইদের প্রতি সংহতি জানাচ্ছি এবং আমাদের সব সৈন্য ও কর্মী প্রয়োজনে তাদের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত রয়েছে। ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিট (পিএমইউ) বলেছে, শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনা পেলে পিএমইউ সদস্যরা ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলোর পক্ষে লড়তে প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে, ইসরায়েলি পুলিশ বর্ণবাদী ইহুদী সংগঠন বেন গাভীর-কে আল-আকসা মসজিদ অভিমুখে মিছিলের অনুমতি দিয়েছে। সংগঠনটি আল-আকসায় ইহুদীদের প্রার্থনার সুযোগের দাবি জানিয়ে আসছে। গাজায় আগ্রাসন ও রাজনৈতিক-সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এমন ধর্মীয় উসকানি পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটাতে পারে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর