advertisement
আপনি পড়ছেন

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিশুরা। ভয়াবহ হামলার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করায় তারা ট্রমায় ভুগছে। বিমান হামলা, রকেট ফায়ার এবং হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যগুলো তাদের স্মৃতিতে দুঃসহ যন্ত্রণা সৃষ্টি করেছে। শারীরিক ও মানসিক আঘাত শিশুদের জন্য মোকাবেলা করা বেশ কঠিন। এজন্য তারা ট্রমায় ভুগে থাকে, যা অতি মর্মান্তিক। খবর দ্য নিউ আরব।

tragic stories during the israeli attackইসরায়েলি হামলার পর ট্রমায় ভুগছে গাজার শিশুরা

খবরে বলা হচ্ছে, টানা তিনদিন ফিলিস্তিনি ছিটমহলে ইসরায়েলি হামলার রক্তাক্ত দৃশ্য গাজার শিশুদের মনে যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, তার প্রমাণ মিলেছে। তারা গোলাবর্ষণের মতো যন্ত্রণাময় আতঙ্কে মানসিক চাপে মারাত্মক ট্রমায় ভুগছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গোলার বিস্ফোরণ তাদের হৃদয়পটে ক্ষত সৃষ্টি করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাজা উপত্যকার উত্তরে জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো কোনো সতর্কতা ছাড়াই নারকীয় হামলা চালায়। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা একদল ফিলিস্তিনির ওপর তারা বোমা বর্ষণ করে। এতে দুই শিশু (ভাই-বোন) নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়।

তাদের পরিবারের বলছে, ইসরায়েলি হামলার সময় আহমেদ ও মোয়ামেন মোহাম্মদ আল-নাইরাব ক্যাম্পে খেলছিল। তাদের চাচাতো ভাই সালমা আল-নাইরাব দ্য নিউ আরবের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করার সে মুহূর্তটির বর্ণনা দিয়েছেন।

সালমা আল-নাইরাব বলছেন, আমরা যখন খেলছিলাম, হাসছিলাম- ঠিক তখনই ক্ষেপণাস্ত্রটি আমার চাচাতো ভাইদের ওপর পড়ল এবং তাদের হত্যা করে ফেলল। আমি জানতাম না কোথায় পালাতে হবে কিংবা কে আহত বা মারা গেছে। আমরা রক্তে ঢেকে গিয়েছিলাম।

সালমা আরও বলেন, মৃত্যু আমাদের সকলের কাছাকাছি ছিল। আমি আমার চাচাতো ভাইদের সাথে মারা যেতে পারতাম। এলাকার একটি দোকানে লুকিয়ে থাকার পর আমি অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছি। এই অভিজ্ঞতা কখনও ভোলা যাবে না।

গাজা শহরের কিশোর মোহাম্মদ আল-আসুলি। সেও একই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির শিকার হয়েছিল। তার পাশের একটি বাড়ি লক্ষ্য করে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা করে। এতে সে আহত হয়।

তার ভাষা, আমি আমার বন্ধুদের সাথে আমাদের বাড়ির পাশে খেলছিলাম। হঠাৎ আমরা একটি বিশাল বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেলাম। আমার মনে হয়েছিল ঘন ধুলোর কারণে আকাশ কালো হয়ে গেছে।

১১ বছর বয়সী মোহম্মদ জানায়, আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল, আমি একটি নির্জন জায়গায় চলে এসেছি। আমি কোথায় আছি তা বুঝতে পারছিলাম না। তাই আমি চিৎকার করতে লাগলাম এবং আমাকে বাঁচানোর জন্য আমার মাকে ডাকতে লাগলাম। কিন্তু কেউ বাঁচাতে আসেনি।

মোহাম্মদ জানায়, যখন আমি চোখ খুললাম তখন নিজেকে হাসপাতালে পেয়েছি। আমি হাসপাতালের চারপাশে যন্ত্রণায় কাতর আহতদের চিৎকার শুনতে পাচ্ছি। বাবা আমাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছিলেন। মুহাম্মদের বাবা আহমেদ আল-আসুলি বলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আমার চাচাতো ভাইকে ডেকে নিয়ে বাড়ি খালি করার হুমকি দিয়েছিল।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর