আপনি পড়ছেন

সাধারণ মানুষের জন্য এখন বড় অস্বস্তির নাম বাজার। এমন কোনো নিত্যপণ্য নেই, যার দাম বাড়েনি। দিনে তিনবেলা যে চালের প্রয়োজন হয়, সেটাও গরীবের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এতদিন ৫০ টাকার নিচে দুই-তিন প্রকারের মোটা চাল পাওয়া যেতো, এখন সেগুলোও অর্ধশতক পূর্ণ করেছে। আগুন লেগেছে সবজির বাজারেও, কেজিপ্রতি দাম ঘুরপাক খাচ্ছে ৫০-৭০ টাকার মধ্যে।

price hike februaryনিত্যপণ্যের দাম গরীবের নাগালের বাইরে

মূল্যবৃদ্ধির এমন অসহনীয় পরিস্থিতি উঠে এসেছে খোদ ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ তথা টিসিবির বাজারদর পর্যালোচনায়। সরকারি সংস্থাটি প্রতিদিন ঢাকার ৯টি বাজার থেকে নিত্যপণ্যের দামের প্রতিবেদন প্রস্তুত করে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠায়। সেই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ৫ আগস্ট থেকে এই এক সপ্তাহের মধ্যে সব নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এবং ইউক্রেন যুদ্ধ- এই দুই ইস্যুতে গত দুই বছরের বেশি সময় ধরেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো এই ঊর্ধ্বগতির পালে হাওয়া দিয়েছে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি। গত ৫ আগস্ট এই দাম বাড়ানোর পর রাতারাতি বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম।

trading corporation of bangladesh tcbটিসিবি

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির কথা বলে সরকার ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেল ও কেরোসিন লিটারপ্রতি ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা নির্ধারণ করেছে। এভাবে অকটেনের লিটার ৪৬ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ৪৬ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, জ্বালানি প্রতি গড়ে এক লাফে ৪৭ শতাংশের বেশি দাম বাড়ানো হয়েছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারে। পণ্য পরিবহনের প্রধান যে মাধ্যম ট্রাক, তারা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে ২০-২৫ শতাংশ। তারপর এই ৫-৬ দিনে ডিমের ডজনের দাম বেড়েছে প্রায় ১৫ টাকা। মসুর ডাল বেড়েছে কেজিপ্রতি ১০ টাকা। এভাবে আটা, ময়দা, সয়াবিন তেল, রসুন, পেঁয়াজ, ব্রয়লার মুরগিসহ সব জিনিশেই লেগেছে দামের আগুন।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর