advertisement
আপনি পড়ছেন

হিজরি নববর্ষ উদযাপনকালে নামাজ আদায়ের সময় পাঠ করা কুরআনের একটি আয়াতকে ‘অভ্যুত্থান’ সম্পর্কিত মনে করায় তিউনিসিয়ার কর্তৃপক্ষ একটি মসজিদের ইমামকে বরখাস্ত করেছে। দেশটির ইমামদের সংস্থা এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। খবর মিডলইস্ট মনিটর।

a mosque of tunisiaতিউনিসিয়ার একটি মসজিদ

খবরে বলা হয়, নাবিউলের পূর্ব গভর্নরেটের আল-সালাম মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ জয়নুদ্দিন জানান, গত ৬ আগস্ট হিজরি নববর্ষের অনুষ্ঠান চলাকালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী ইব্রাহিম চাইবির উপস্থিতিতে মাগরিবের নামাজে ইমামতি করেছিলেন। ওই নামাজের কেরাতে তিনি সূরা আলে ইমরান থেকে কিছু অংশ পাঠ করেন।

ওই আয়াতের অর্থ, ‘মুহাম্মদ একজন রসুল ছাড়া আর কিছু নন; তার আগে আরও অনেক রসুল গিয়েছেন। যদি তিনি মারা যান বা নিহত হন, তাহলে কি আপনি কুফরিতে ফিরে যাবেন? যারা তা করবে তারা আল্লাহর কোন ক্ষতি করবে না। যারা কৃতজ্ঞ তাদের পুরস্কৃত করুন।’

tunisian president kais saied 2তিউনিসিনিয়ার প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদ

ইমাম জয়নুদ্দিন বলেন, ধর্মমন্ত্রী পঠিত ওই আয়াতকে অভ্যুত্থানের আয়াত উল্লেখ করে পরামর্শ দেন, নামাজে এ সম্পর্কিত আয়াত এড়িয়ে যাওয়াই ভাল। কিন্তু পরদিন গভর্নরেট কর্তৃপক্ষ ফোনে তাকে জানায়, তাকে দশ দিনের জন্য বাধ্যতামূলক ছুটি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে তিউনিসিয়ান জেনারেল লেবার ইউনিয়ন ইউজিটিটির সিন্ডিকেট অফ রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্সের সেক্রেটারি জেনারেল আবদুস সালাম আতভি বলেন, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে নাবিউল গভর্নরেটের একজন ইমামকে বরখাস্ত করার কারণগুলো তদন্ত করা হবে। যদি প্রমাণিত হয় যে ইমাম জয়নুদ্দিনকে বরখাস্ত করা হয়েছে, আমরা চুপ থাকব না এবং এ ব্যাপারে আমরা ব্যবস্থা নেব।

দেশটির ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় অবশ্য এ ঘটনায় এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদ ক্ষমতা কুক্ষিগত করে একের পর পর যেসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তাতে দেশটিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি তিনি সংবিধানের খসড়ার বিষয়ে গণভোট নিয়েছেন। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, তিউনিসিয়ার রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে না, তবে মুসলিম উম্মাহর কথা উল্লেখ থাকবে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর